যশোর জেলা শহরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যার ঘটনার পর সম্ভাব্য অপরাধীদের সীমান্ত অতিক্রম রোধে চুয়াডাঙ্গার সীমান্তজুড়ে ব্যাপক তৎপরতা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) তাদের দায়িত্বপূর্ণ সকল সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে যশোর জেলার শংকরপুর এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উদ্বেগ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। নিহত আলমগীর হোসেন (৫৫) যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকাল সারে ৩টার দিকে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ নাজমুল হাসান এক বিশেষ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, এই ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুষ্কৃতকারী ও অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং তারা যাতে সীমান্ত অতিক্রম করে পালাতে না পারে, সে লক্ষ্যে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি জানান, চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ মেইন পিলার ৭৫/৩-এস থেকে ১৩১/৮-আর পর্যন্ত প্রায় ১১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি ও নজরদারি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সীমান্তের ঝুকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, দর্শনা আইসিপি, দর্শনা, দামুড়হুদা, সুলতানপুর, বারাদী, বড়বলদিয়া, ফুলবাড়ী, ঠাকুরপুর, মুন্সিপুর, হুদাপাড়া, জগন্নাথপুর, মেহেরপুরের আনন্দবাস, মুজিবনগর, নাজিরাকোনা, দাড়িয়াপুর, বুড়িপোতা, বাজিতপুর, ঝাঝা, ইছাখালী, রুন্দ্রনগর ও শৈলমারী বিওপি এলাকাসহ সীমান্তসংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ নাজমুল হাসান আরও বলেন, আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কেউ যেন সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে, সে জন্য বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
এনআই