আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক চেয়েছেন ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ। রবিবার (০৪ জানুয়ারি) ট্রাম্পের হুমকির পর কার্যত সুর নরম করেছেন তিনি।
সোমবার (০৫ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে দেলসি রদ্রিগুয়েজ জানান, “ভেনেজুয়েলা এবং ভেনেজুয়েলার জনগণের উন্নয়নের স্বার্থে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিতভাবে ‘এজেন্ডা অব কো-অপারেশন’ কর্মসূচি গ্রহণ করতে চাই। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হবে আন্তর্জাতিক আইন ও ফ্রেমওয়ার্ক সম্পূর্ণভাবে মেনে পারস্পরিক উন্নয়ন।”
দেলসি রদ্রিগুয়েজ বলেন, “ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্র এবং আমেরিকা অঞ্চলের সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে বলছি, আমাদের দেশ এবং জনগণ শান্তি এবং সংলাপ চায়, যুদ্ধ নয়। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বরাবরই এই বার্তা দিয়ে এসেছেন এবং এই মুহূর্তে এটি পুরো ভেনেজুয়েলার বার্তা।”
“শান্তি, উন্নতি, সার্বভৌমত্ব এবং ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হওয়ার অধিকার ভেনেজুয়েলার জনগণের আছে।”
গতকাল মাকিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ কিংবা তার নেতৃত্বাধীন সরকারের কর্মকর্তারা যদি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন— তাহলে ফের দেশটিতে হামলা হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেল ও অন্যান্য সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চায় যুক্তরাষ্ট্র।
গত শনিবার শেষরাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে প্রেসিডেন্টের সেনা অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল কারাগারে বন্দি আছেন।
প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে অপহরণের কয়েক ঘণ্টা পর ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজকে দেশের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছেন ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের ঘোষণায় বলা হয়েছে, সাংবিধানিক বিধি অনুসারে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে। ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীও সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে।
প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর তাৎক্ষণিক এক বিবৃতিতে দেলসি বলেছিলেন, “যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক শক্তির নিষ্ঠুর অপব্যবহার করেছে এবং ভেনেজুয়েলার জনগণ তার জবাব দেবে।”
রবিবারের বিবৃতির মাধ্যমে আগের সেই অবস্থান থেকে কার্যত সরে এসেছেন দেলসি রদ্রিগুয়েজ।
সূত্র : সিএনএন
এমআর-২