ভেনেজুয়েলায় আকস্মিক হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে। ভেনেজুয়েলা সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, নিহতদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক উভয়ই রয়েছে।
এদিকে ফক্স নিউজে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এ ঘটনায় কোনো মার্কিন সেনা নিহত হয়নি। তবে কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়ে থাকতে পারেন বলে ইঙ্গিত দেন। পরে দুজন মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, মাদুরোকে আটক করার অভিযানে আনুমানিক ছয় মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
অভিযানের পরে মার-এ-লাগোতে ট্রাম্পের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করতে যাওয়ার সময় মার্কিন হেলিকপ্টারগুলো গোলাগুলির মুখে পড়ে।
তিনি জানান, এতে একটি হেলিকপ্টারে গুলি লাগলেও সেটি ‘উড়তে সক্ষম ছিল’। অভিযানের পর সব মার্কিন উড়োজাহাজ নিরাপদে ঘাঁটিতে ফিরে আসে বলে উল্লেখ করেন এই সামরিক কর্মকর্তা।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সহিংসতার ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ক্যাটিয়া লা মার এলাকার একজন ভেনেজুয়েলান বেসামরিক নাগরিকও ছিলেন। ক্যারাকাস বিমানবন্দরের পশ্চিমে অবস্থিত এই উপকূলীয় নিম্নআয়ের এলাকায় মার্কিন বাহিনীর হামলার সময় একটি তিনতলা বেসামরিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে ভবনের বাইরের একটি দেয়াল ধসে পড়ে।
হামলায় ৮০ বছর বয়সী রোসা গঞ্জালেস নিহত হন বলে তার পরিবার জানিয়েছে। আরও একজন ব্যক্তি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চারজন ব্যক্তি গঞ্জালেসকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। তাকে একটি মোটরবাইকে করে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
এবি