এইমাত্র
  • ক্র্যাবের সভাপতি তমাল, সাধারণ সম্পাদক বাদশাহ
  • মেহেরপুরে এনসিপি ও জামায়াতের মতবিনিময়
  • সুন্দরবনে অপহৃত পর্যটকসহ ৩ জন উদ্ধার
  • হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বরিশালে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
  • ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন শফিউল ইসলাম
  • ঢাকা-১২ আসনে ‘সবচেয়ে গরিব’ প্রার্থী আমজনতার তারেক রহমান
  • মির্জাপুরে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার
  • বরিশালে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার
  • চলনবিলে অবাঞ্ছিত কচুরিপানায় কৃষকদের ভোগান্তি
  • মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল গ্রহণ চলছে
  • আজ সোমবার, ২২ পৌষ, ১৪৩২ | ৫ জানুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    কুয়াকাটায় নিষ্ক্রিয় ট্যুরিস্ট পুলিশ, পর্যটকদের ক্ষোভ

    জুয়েল ফরাজী, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
    জুয়েল ফরাজী, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১২ পিএম

    কুয়াকাটায় নিষ্ক্রিয় ট্যুরিস্ট পুলিশ, পর্যটকদের ক্ষোভ

    জুয়েল ফরাজী, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১২ পিএম

    যান্ত্রিক শহরের কোলাহল থেকে স্বস্তির নিশ্বাস নিতে প্রতিবছর দেশের নানান প্রান্ত থেকে ভ্রমন পিপাসুরা ছুটে আসেন সাগর কন্যা কুয়াকাটায়। তবে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    পর্যটকদের অভিযোগ, কুয়াকাটায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যুরিস্ট পুলিশ কার্যত নিষ্ক্রিয় থাকায় সৈকতে বিশৃঙ্খলা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, কুয়াকাটার জিরো পয়েন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবাধে মোটরসাইকেল ও অটোবাইক চলাচল করছে। সৈকতের এক পাশে ফুটবল খেলায় মেতে উঠেছেন পর্যটকরা, অন্য পাশে হকারদের মাইকিংয়ে অতিষ্ঠ দর্শনার্থীরা। অথচ এসব বন্ধে ট্যুরিস্ট পুলিশের তেমন কোনো তদারকি দেখা যায় না।

    সম্প্রতি কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা এক পর্যটক দম্পতির শিশুর পা ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ট্যুরিস্ট পুলিশের ভাষ্যমতে, সৈকত এলাকায় মোটরসাইকেল, অটোবাইক চলাচল ও ফুটবল খেলা নিষিদ্ধ থাকলেও স্থানীয় চালকরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পর্যটক এলাকায় প্রবেশ করে এ দুর্ঘটনা ঘটায়।

    স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, অনেক সময় সকাল ১০টা পর্যন্ত ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্স বন্ধ থাকে। আবার বক্স খোলা থাকলেও বেশিরভাগ সময় সদস্যদের মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। মাঝেমধ্যে মাইকিং করে সতর্কতা জানানো হলেও মাঠপর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেই।

    ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক তানভীর আহমেদ সিয়াম বলেন, দেশ-বিদেশে অনেক পর্যটন এলাকা ঘুরেছি। কিন্তু কুয়াকাটার মতো অব্যবস্থাপনা কোথাও দেখিনি। সৈকতে পুলিশের কোনো তদারকি চোখে পড়েনি।

    গত ৩০ ডিসেম্বর গভীর রাতে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন এবং বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আনন্দ-উল্লাস না করার নির্দেশনা থাকলেও ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সের পাশেই আতশবাজি ফোটানো ও ফানুস ওড়ানো হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা না থাকায় সমালোচনা আরও তীব্র হয়।

    পর্যটকদের অভিযোগ, কুয়াকাটায় ট্যুরিস্ট পুলিশের কোনো সচল উদ্ধারযান নেই। সম্প্রতি কয়েকজন পর্যটক সাগরে ডুবে মারা গেলেও তাৎক্ষণিক উদ্ধার ব্যবস্থার অভাব দেখা গেছে। সৈকত টহলের জন্য থাকা বিচ বাইকগুলোও দীর্ঘদিন ধরে বক্সের পাশে অচল অবস্থায় পড়ে আছে।

    স্থানীয় ও পর্যটকদের দাবি, কুয়াকাটায় ট্যুরিস্ট পুলিশ নামমাত্র দায়িত্ব পালন করছে, ফলে পর্যটকদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে পড়ছে।

    এ বিষয়ে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের এসআই তাপস বলেন, বারবার নিষেধ করা হলেও স্থানীয় চালকরা আমাদের কথা শোনে না। অনেক সময় পর্যটকরাও সৈকতে ফুটবলসহ নানা খেলাধুলায় জড়িয়ে পড়েন, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়। ট্যুরিস্ট পুলিশ কার্যক্রমে ব্যর্থতা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

    এ বিষয়ে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হাবিবুর রহমান বলেন, কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় আমরা সব সময় প্রস্তুত। দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, যা আমরা সমাধান করেছি। পর্যটকের পা ভাঙা ও আতশবাজির বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে পর্যটক ও চালকদের আরও সচেতন করা হচ্ছে।

    এফএস

    ট্যাগ :

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…