এক মৌসুম না পেরোতেই কোচ এনজো মারেসকারকে বরখাস্ত করেছিল ইংলিশ ক্লাব চেলসি। এরপর থেকেই স্টামফোর্ড ব্রিজের দলটিতে নতুন করে কে দায়িত্ব পাবেন সে নিয়ে জল্পনা ছিল।
সেই জল্পনা কাটিয়ে অবশেষে নতুন কোচ নিয়োগ দিয়েছে চেলসি। ৪১ বছর বয়সী ইংলিশ কোচ লিয়াম রোজনিয়রকে নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে তারা। এর আগে ফরাসি ক্লাব স্ক্রাসবুর্গের কোচের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
চেলসির নতুন কোচ নির্বাচন নিয়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নানা নাম আলোচনায় ছিল। তবে বোর্ডের ভেতরের হিসাব–নিকাশে শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন রোজনিয়র। শেষ পর্যন্ত তাঁর দিকেই আস্থা রেখেছে ক্লাবটি। স্ত্রাসবুর্গে দেড় বছরের কাজ তাঁকে এই সুযোগ এনে দিয়েছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফরাসি ক্লাবটিতে রোজনিয়রের সময়টা ছিল কোচ হিসেবে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সেরা অধ্যায়। সেখান থেকে বিদায় নেওয়াটা তাই ভীষণ আবেগের হলেও চেলসির মতো ক্লাবের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। রোজনিয়রের ভাষায়, এটা শুধু একটা চাকরি নয়, বরং এক বিরাট ‘সম্মান’।
চেলসির মালিক টড বোয়েলি বরাবরই তরুণ কোচ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে বিশ্বাসী। অনেকেই রোজনিয়রের ফুটবল দর্শনে মার্সেলো বিয়েলসার ছাপ খুঁজে পান। পাশাপাশি তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করার দক্ষতাও তাঁকে বোয়েলির পছন্দের তালিকায় এগিয়ে রাখে।
এর আগে গত ১ জানুয়ারি চেলসির কোচের পদ থেকে ছাঁটাই করা হয় এনজো মারেসকাকে। ক্লাব বিশ্বকাপ ও উয়েফা কনফারেন্স লিগ জিতলেও সাম্প্রতিক সময়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।
২০২২ সালে ডার্বি কাউন্টিতে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে যাত্রা শুরু করে রোজনিয়র। এরপর
রোজনিয়রের কোচিং যাত্রা শুরু হয় ২০২২ সালে ডার্বি কাউন্টিতে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে। এরপর হাল সিটিতে দায়িত্ব নিয়ে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে চেলসির মালিকপক্ষেরই মালিকানাধীন ফরাসি ক্লাব স্ত্রাসবুর্গে যোগ দিয়ে আরও বড় মঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।
চেলসির ডাগআউটে বসে রোজনিয়রের সামনে চ্যালেঞ্জ কম নয়। তরুণ স্কোয়াড, বড় প্রত্যাশা আর প্রিমিয়ার লিগের চাপ—সব মিলিয়ে কঠিন এক পরীক্ষার মুখে পড়ছেন তিনি। তবে স্ত্রাসবুর্গে যে ধৈর্য ও পরিকল্পনার ছাপ রেখেছেন, সেটিই হয়তো স্টামফোর্ড ব্রিজে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠবে।
আরডি