সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় অবৈধভাবে খিরা ও আলুর হাট বসিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ইজারাদাররা, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।
জানা গেছে, চলনবিল অধ্যুষিত লাহিড়ী মোহনপুর, বড়পাঙ্গাসী, উধুনিয়া, ভাগুড়া ও ফরিদপুর এলাকায় প্রচুর পরিমাণে খিরা, শসা ও আলুর চাষাবাদ হয়। আর এই খিরা চাষাবাদকে কেন্দ্র করে উল্লাপাড়া উপজেলার কয়রা বর্ধনগাছা ও চাকসায় দুটি পাইকারি খিরার আড়ৎ বসেছে। চলতি বছরে নতুন করে আলু বিক্রি করা হচ্ছে। এতে লাহিড়ী মোহনপুর ইজারাভুক্ত আলুর হাটে ক্ষতির মুখে পড়ছেন ইজারাদাররা।
খিরা-শসা মৌসুমের অন্তত ৮ মাস কেনাবেচা চলে এই হাটে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এই দুটি খিরার হাটে ক্রেতা-বিক্রেতায় সরগরম থাকে। প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪০ ট্রাক খিরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়। চলনবিলের খিরার মান ভালো হওয়ায় এই হাটে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা খিরা কিনতে আসেন। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার খিরা ও আলু কেনাবেচা হলেও সরকার রাজস্ব পাচ্ছে না। ১৬ বছর ধরে চলছে এ হাট।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে কয়রা বর্ধনগাছা হাট স্থাপন করে কয়েকজন এলাকাবাসী। ৪ বিঘার ওপর নির্মিত এই হাট কমিটিতে রয়েছে ১০ জন। হাট থেকে যে আয় হয়, তা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় এবং এর কিছু অংশ স্থানীয় মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নতিকল্পে দান করা হয়। এর ২ কিলোমিটার দূরে রয়েছে চাকসা করম আলীর খিরার হাট। এখানে করম আলী নামে এক ব্যক্তির ছেলেরা হাটটি পরিচালনা করছেন। তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর হাটের খাজনা যা পাওয়া যায়, সবই তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় দুটি খিরার হাট বসলেও ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিত এই দুটি হাট থেকে সরকার রাজস্ব পাচ্ছে না। এতে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক ব্যবসায়ী জানান, চর বর্ধনগাছা খিরার হাট থেকে ৩-৪ ট্রাক খিরা পাইকারি কিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে বিক্রি করেন। মণপ্রতি ৫ টাকা করে খাজনা দেওয়া হয়।
ঢাকার কিছু ব্যবসায়ী জানান, তারা প্রতিদিন সকালে খিরা কিনে ঢাকার কাওরান বাজারে বিক্রি করেন। চলনবিলের খিরার চাহিদা বেশি থাকায় প্রতিদিনই তারা ঢাকায় খিরা নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেন।
কয়রা বর্ধনগাছা হাটের ইজারাদার মাওলানা আব্দুস সাত্তার দর্জি জানান, তারা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর হাট বসিয়েছেন। খাজনা যতটুকু পাওয়া যায়, তা হাটের অংশীদারদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। এছাড়াও এর কিছু অংশ স্থানীয় মসজিদ-মাদ্রাসা পেয়ে থাকে।
হাট থেকে সরকার রাজস্ব পাচ্ছে না—এ বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার তাদের নিজস্ব সম্পত্তির ওপর হাট বসিয়ে খাজনা উত্তোলন করুক, এতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। এছাড়া এই হাটে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ ট্রাক খিরা বিক্রি হয়, যার টাকার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি টাকা। তিনি আরও বলেন, কৃষকরা এই হাটে খিরা বিক্রি করতে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয় না। তবে নতুন করে আলু বিক্রি হচ্ছে—এ বিষয়ে তিনি বলেন, তারা হাট লাগিয়েছেন, সবকিছুই বিক্রি করতে পারবেন।
মাওলানা আব্দুস সাত্তার আরও বলেন, সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া অবৈধ। আমরা যেহেতু রাজস্ব দিচ্ছি না, সেহেতু আমরাও অবৈধ কাজ করছি। তবে হাট থেকে যে টাকা উত্তোলন হয়, তার কিছু অংশ স্থানীয় মসজিদ-মাদ্রাসায় দেওয়া হয়। এছাড়া আমরা ১০ জন সদস্য বাকি টাকা নিয়ে থাকি। এছাড়াও এই হাটের জায়গা আমরা ২ শতক করে কিনেছি।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম আরিফ জানান, খিরার হাটে এই মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে খিরা ও শসা বিক্রি হয়ে থাকে। তবে সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ায় খুব দ্রুতই এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইখা