দুই লাখ কোটি টাকার সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় অনুমোদন পেতে যাচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল এডিপির আকার ছিল দুই লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এবার সর্বোচ্চ কাটছাঁট করা হয়েছে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে। এ ছাড়া শিক্ষা, পরিবহন, ধর্ম ও কৃষিতেও বড় কাটছাঁট করা হয়েছে।
তবে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে পরিবেশ, স্থানীয় সরকার ও বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে।
আজ সোমবার পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রধান উপদেষ্টা সংশোধিত এডিপি অনুমোদন দেবেন। সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদসহ এনইসির সদস্য ও সহযোগী কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। এর আগে গত ৫ জানুয়ারি ৩০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে এডিপি চূড়ান্ত করে পরিকল্পনা কমিশন।
যেখানে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা। দুই লাখ কোটি টাকার সংশোধিত এডিপির মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ৭২ হাজার কোটি টাকা আর সরকারের কোষাগার থেকে বরাদ্দ ধরা হয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা।
স্বাস্থ্য খাতে বড় কাঠছাঁটের বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, স্বাস্থ্যের সবচেয়ে বড় কর্মসূচি বাতিল হওয়ার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রকল্প সঠিক সময়ে পাঠাতে পারেনি। যার কারণে তাদের বড় প্রকল্পগুলো অনুমোদন পেতে দেরি হয়েছে। ফলে কাটছাঁট বেশি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রকল্পের চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এবং সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) তুলনা করে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের, বরাদ্দ বেড়েছে ২৮ শতাংশ। এর পাশাপাশি স্থানীয় সরকার বিভাগে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ শতাংশ। এই দুই খাতেই মূলত বরাদ্দ বাড়ানোর প্রবণতা দেখা গেছে।
মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ৭৭ শতাংশ কমানো হয়েছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণে। ৭৩ শতাংশ কমানো হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ হ্রাস পেয়েছে ৫৫ শতাংশ। এ ছাড়া বিদ্যুতে ২৭ শতাংশ, প্রাথমিক শিক্ষায় ২৯ শতাংশ, নৌপরিবহনে ৩৬ শতাংশ, রেলপথ ও কৃষিতে ৩৬ শতাংশ কমানো হয়েছে।
এ ছাড়া সেক্টরভিত্তিক বরাদ্দের তুলনায় দেখা যায়, আরএডিপিতে সবচেয়ে বড় কাটছাঁটের শিকার হয়েছে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট খাতগুলো। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৭৪ শতাংশ, যা ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ হ্রাস। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সামাজিক সুরক্ষা খাত, ৭৩ শতাংশ। ৩৫ শতাংশ কমানো হয়েছে শিক্ষা, পরিবহন ও ধর্মে। অবকাঠামো খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সড়ক পরিবহন খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৩৮ শতাংশ।
সেক্টরভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সামগ্রিকভাবে পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদ সেক্টরেই এডিপির তুলনায় আরএডিপিতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০ শতাংশ। এর বিপরীতে সেক্টর পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ কমেছে স্বাস্থ্য সেক্টরে, যেখানে হ্রাসের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪ শতাংশ।
নগর পরিবহন খাতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে মেট্রো রেল প্রকল্পগুলোতে। বড় কাটছাঁট করা হয়েছে মেট্রো রেল লাইন-১ প্রকল্পে। কিশোরগঞ্জ এলিভেটেড সড়ক প্রকল্পে বরাদ্দ কমেছে ৯৫ শতাংশের বেশি। মতলব উত্তর-গজারিয়া সড়কের ওপর মেঘনা-ধনাগোদা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো হয়েছে প্রায় ৯৭ শতাংশ। এসব প্রকল্পে বরাদ্দ হ্রাস পাওয়ায় উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের গতি মন্থর হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সামাজিক সুরক্ষা ও নগর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বরাদ্দও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খাদ্য কর্মসূচিতে বরাদ্দ প্রায় ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
এবি