ইরানে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে অসছে। একই সঙ্গে, রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে সরকারের পক্ষে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি পরিস্থিতি ধীরে ধীরে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংকট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের ক্রিটিক্যাল থ্রেটস প্রজেক্ট জানায়, গত রোববার (১১ জানুয়ারি) থেকে ইরানজুড়ে বিক্ষোভের মাত্রা কমতে শুরু করেছে। সংস্থাটির মতে, সরকারের দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধ এবং স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আরোপের ফলে আন্দোলনের গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে।
এদিকে, ইরানের বিভিন্ন শহরে সরকারপন্থি পাল্টা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আল-জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি বলেন, রাজধানীতে ডাকা সরকারপন্থি সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিচ্ছেন। তিনি জানান, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নগালাবি স্কয়ারেও আরেকটি বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ এসব সমাবেশে অংশ নিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানে ইন্টারনেট ফের চালু করার ঘোষণা প্রসঙ্গে কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষক মেহরান কামরাভা বলেন, সরকার মূলত রাস্তায় গণজমায়েত ঠেকাতেই ইন্টারনেট বন্ধ করেছিল। তার মতে, এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলেই কর্তৃপক্ষ আবার ইন্টারনেট চালু করতে যাচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এরই মধ্যে জানিয়েছেন, খুব শিগগির ইন্টারনেট চালু করা হবে। কামরাভার কথায়, ইরানের নেতৃত্ব দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক মহলকে দেখাতে চায় যে, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তারা আলোচনায় আগ্রহী।
সূত্র: আল-জাজিরা
এমআর-২