ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বাবার মৃত্যুর পর বেদখল হয়ে যাওয়া এক একর ৫০ শতক জমি দীর্ঘ ৫০ বছর পর ফিরে পেয়েছেন তার ছেলে আব্দুর রহমান। এতে আনন্দের জোয়ার বইছে দরিদ্র পরিবারটিতে।
স্থানীয়দের সাথে কয়েক দফায় শালিসে বৈঠকের পর আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসান উল হক জমির মালিকানা ও দখল আব্দুর রহমানকে বুঝিয়ে দেন। মালিকানা বুঝে পাওয়ার পর জমিতে হালচাষ করে ভুট্টা রোপন করেছেন আব্দুর রহমান।
উপজেলা ভূমি অফিস সুত্রে জানা গেছে, ১৯৭৬ সালে বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীকে এক একর ৫০ শতক জমি পত্তন/সরকারি বন্দোবস্ত দিয়েছিল তৎকালীন স্থানীয় প্রশাসন। ছেলে আব্দুর রহমানের বয়স যখন ৭ বছর, তখন হটাৎ করেই মারা যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী। এরপর থেকে বেদখল হয়ে যায় পুরো সম্পত্তি। নাবালক থাকার কারণে ওই সময় বাবার জমির দখল ধরে রাখতে পারেননি ছেলে।
আব্দুর রহমান বলেন, ‘বাবা যখন মারা গেলেন, তখন আমার বয়স ৭ বছর। বাবার শোক কাটিয়ে উঠার আগেই স্থানীয় প্রভাবশালীরা আমাদের জমিগুলো দখল করে নেয়। আমরা বার বার চেষ্টা করেছি জমি উদ্ধারের, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের কাগজপত্র ভুয়া, টাকা পয়সা না থাকার কারণে পাত্তা দিতো না প্রতিপক্ষরা। স্থানীয়ভাবে শালিস মীমাংসার জন্য বসলে মানতো না প্রতিপক্ষের লোকজন। পরে উপজেলা ভূমি অফিসে এ্যাসিল্যান্ডের কাছে যাই। তিনি কয়েকদফায় কাগজপত্র যাচাই করে শালিস ডাকেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর জমিতে লাল কাপড় বেধে দিয়ে আজ দখল বুঝে পেলাম। আমি অসহায় ছিলাম, এ্যাসিল্যান্ড স্যার না হলে শেষ বয়সে পথে বসতে হতো।’
স্থানীয়রা জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর দুই ছেলে। জমি বেদখল হওয়ার কারণে আব্দুর রহমান এলাকায় দিনমজুরি করে জীবন যাপন করতেন। তার ভাই ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন। জমি ফিরে পেয়ে পরিবারটি আলোর মুখ দেখবে।
বালিয়াডাঙ্গী সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসান উল হক বলেন, ‘সরকারি বন্দোবস্ত হিসেবে আব্দুর রহমানের বাবা উক্ত জমি পেয়েছিলেন। যেটাকে পত্তন বলি। তার উত্তরাধিকারী হিসেবে ওই জমির মালিক এখন ছেলে। জমিটি বেদখল ছিল, স্থানীয় শালিসের মাধ্যমে আমরা উদ্ধারের ব্যবস্থা করেছি।’
ইখা