শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে ৪৫টি ককটেল, দেশীয় অস্ত্র ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বিলাসপুর ইউনিয়নের একাধিক সন্দেহভাজন স্থানে একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযানের অংশ হিসেবে বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারীর বাড়ির আশপাশ, চেরাগ আলী বেপারি কান্দির সেলিম মোল্লা ও মোস্তফা বেপারীর বাড়িসহ একাধিক সন্দেহভাজন বাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় নিবিড় তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে প্লাস্টিকের বালতিতে সংরক্ষিত অবস্থায় ৪৫টি ককটেল উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে কুদ্দুস বেপারীর সমর্থক বাবুল বেপারীর বাড়ির পশ্চিম পাশে মজিদ বেপারীর বাঁশঝাড় থেকে ১২টি, নুরুজ্জামান বেপারীর বাড়ির বাইরের অংশ থেকে ১২টি, শামচুল বেপারীর বাড়ির পাশের বাঁশঝাড় থেকে আরও ১২টি এবং চেরাগ আলী বেপারি কান্দির শাজাহান ছৈয়ালের বাড়ির পাশ থেকে ৯টি ককটেল জব্দ করা হয়।
এ ছাড়া অভিযানে ককটেল তৈরির বিভিন্ন উপকরণ, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র এবং একটি খেলনা সদৃশ ড্রোন উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলো নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করতে বোম ডিসপোজাল ইউনিট কাজ করবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযান চলাকালে সন্দেহজনকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজন নারী ও একজন পুরুষকে আটক করা হয়।
উল্লেখ্য, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিলাসপুর এলাকায় সম্প্রতি ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) কুদ্দুস বেপারীর সমর্থকদের ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণে সোহান বেপারী (৩২) ও নবীন হোসেন (২২) নিহত হন। এ ঘটনায় নয়ন মোল্লা (২৫) গুরুতর আহত হন।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এলাকায় নজরদারি ও অভিযান জোরদার করে প্রশাসন। বিস্ফোরণ ও হতাহতের ঘটনায় জাজিরা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে বিবাদমান দুই গ্রুপের ৫৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
অভিযান শেষে বিলাসপুর কুদ্দুস বেপারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তানভীর হোসেন বলেন, ‘বিলাসপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ককটেল সদৃশ্য বস্তু ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বিলাসপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতা, নাশকতা কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। এলাকাবাসীর জানমাল রক্ষায় এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনানুগ ও কঠোর সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছি।’
ইখা