শীতে বাজারে মৌসুমি ফল ছাড়াও আপেল, কমলালেবু, আঙুরের মতো কিছু বারোমাসি ফলের সঙ্গে দেখা যায় কলা। যা খুবই পুষ্টিকর ফল। শীতে কলা খাওয়া হলেও অনেকেই আবার ঠান্ডার ভয়ে এড়িয়ে চলেন। তারা খাদ্যতালিকা থেকে কলা বাদ দিয়ে দেন। কারও কারও প্রশ্ন, সত্যিই কি শীতে কলা খেলে ঠান্ডা লাগে? শীতে কলা খেলে কী ঘটে শরীরে?
তাহলে জেনে নেয়া যাক কেন ও কখন খাবেন কলা-
শীতে কলা খাওয়া কি ঠিক: স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতে কলা খাওয়া ক্ষতিকর নয়। বরং এটি খুবই উপকারী। শীতে কলা খাওয়ার সময় ও নিয়ম জানাও জরুরি। কারণ, কলায় প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬, ফাইবার ও ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে, যা শীতকালীন শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে সহায়তা করে।
শীতে খাদ্যতালিকায় কলা রাখার উপকারিতা-
তাৎক্ষণিক শক্তির উৎস: শীতে শরীর বেশ অলস হয়ে পড়ে। কলায় বিদ্যমান প্রাকৃতিক শর্করা (গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ) শরীরে অল্প সময়ের মধ্যে শক্তি সরবরাহ করে। প্রতিদিন সকালে নাশতার সঙ্গে একটি কলা খাওয়া হলে সারাদিন চাঙা থাকে শরীর।
হজম ক্ষমতার উন্নতি: শীতে তেল-মশলাযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া হয়, যা থেকে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ সময় কলা খুব উপকারী। কলায় থাকা উচ্চ ফাইবার উপাদান হজম প্রক্রিয়াকে সচল রাখে এবং পেট পরিষ্কার করতে সহায়তা করে।
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: কলায় বিদ্যমান ম্যাগনেশিয়াম শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা বজায় রাখে, যা পরোক্ষভাবে শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষা করে শরীরকে।
রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: শীতে কম-বেশি সবারই সর্দি-কাশি লেগেই থাকে। এ জন্য কলা খেলে উপকার পাওয়া যায়। কলায় উপস্থিত ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ভূমিকা রাখে।
মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি: শীতের বিষণ্ণতা বা ‘উইন্টার ব্লুজ’ কাটিয়ে উঠার জন্য নিয়মিত কলা খেতে পারেন। কলায় থাকা ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামিনো অ্যাসিড শরীরে ‘সেরোটোনিন’ বা হ্যাপি হরমোন তৈরি করে আপনার মন সতেজ ও ভালো রাখে।
কারা সতর্ক থাকবেন: কলা উপকারী হলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি ক্ষতিকর। সর্দি-কাশি, ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা থাকলে কলা না খাওয়াই ভালো। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণ খাওয়া যেতে পারে।
সর্দি-কাশির প্রবণতা: সাইনাস, অ্যাজমা বা তীব্র সর্দি-কাশির সমস্যা থাকলে ভোরে বা সকালে এবং রাতে কলা খাওয়া এড়িয়ে চলুন। এ সময় কলা খাওয়া হলে শরীরে ‘মিউকাস’ বা শ্লেষ্মা হতে পারে।
ডায়াবেটিস: কলায় শর্করার মাত্রা বেশি থাকে। এ জন্য ডায়াবেটিসের রোগীদের কলা না খাওয়াই ভালো। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে পারেন।
কখন ও কীভাবে খাবেন: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে কলা খাওয়ার উপযুক্ত সময়। রোদ উঠার পর খেলে আরও ভালো। এ সময় কলা খেলে হজম ভালো হয়। খুব ভোরে খালি পেটে না খাওয়া ভালো। তবে ভারি খাবারের সঙ্গে বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে উপকারিতা বেশি। শীতে স্বাভাবিকভাবে পরিমিত পরিমাণ কলা খাওয়া যেতে পারে। শারীরিক কোনো সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে।
এইচএ