অগ্রণী ব্যাংক যশোর শাখার এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এফডিআর ও সঞ্চয় হিসাবের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তারা বিক্ষোভও করেছেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, অগ্রণী ব্যাংক যশোর শাখার কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে গ্রাহকদের এফডিআর ও সঞ্চয় হিসাবের টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন। সম্প্রতি টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে এসে তারা জানতে পারেন, তাদের হিসাবে কোনো অর্থ নেই। পরে খোঁজ নিয়ে তারা বুঝতে পারেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাদের অজান্তে হিসাব থেকে টাকা তুলে নিয়েছেন।
তারা আরও জানান, এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রকৃত ভুক্তভোগীর সংখ্যা আরও বেশি এবং আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমাণ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
ভুক্তভোগী সেলিনা খাতুন জানান, টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন তাকে অগ্রণী ব্যাংক যশোর শাখার একটি চেক দেন। চেকটির পরিমাণ ৬ লাখ টাকা, তারিখ ২৩ জুন ২০২৫ এবং হিসাব নম্বর ৬৫৪২৩৯। তবে নির্ধারিত সময়ে চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে তা প্রত্যাখ্যাত হয়। এতে তিনি প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হন।
আরেক ভুক্তভোগী ডা. আবু সাইম জানান, তিনি যশোর শহরের জনতা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক লিমিটেডে কর্মরত। কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন নানা প্রলোভন ও আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকেও বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেন। পরে টাকা ফেরত চাইলে নানা টালবাহানা করে একপর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
এছাড়াও কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন গ্রাহক আমিনুল ইসলামের ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, শামিম হোসেনের ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, আনজুরা বেগমের ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মনিরা বেগমের ২ লাখ টাকা, কাজি বদরুজ্জামানের ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা, সেলিনা খাতুনের ৬ লাখ টাকা এবং জসিম উদ্দিন নামে এক গ্রাহকের ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, রোববার (১১ জানুয়ারি) ভুক্তভোগীরা ব্যাংকে গিয়েও অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ব্যাংকের অন্য কর্মকর্তারা ভেতর থেকে গেটে তালা মেরে দেন। এ সময় ভুক্তভোগীদের জানানো হয়, ‘আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না। আপনারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।’
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, তারা বিষয়টি আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-কে অবহিত করেছিলেন। দুদক প্রাথমিক অনুসন্ধানের আশ্বাস দিলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তা আরও অনেক গ্রাহকের কাছ থেকে আনুমানিক এক কোটি টাকার বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
এ বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযুক্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যাংক একটি মামলা করেছে। বর্তমানে মামলাটি চলমান। অভিযুক্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এনআই