এইমাত্র
  • ফটিকছড়িতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৮ নেতাকর্মীর ছাত্রদলে যোগদান
  • মিরসরাইয়ে ট্রেনের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু
  • স্বামীর অভিযোগে প্রার্থীতা হারালেন স্ত্রী
  • ভূঞাপুরে দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ
  • চাটমোহরে শিয়ালের মাংস বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ
  • জীবননগরে সেনা হেফাজতে নিহত বিএনপি নেতার দাফন সম্পন্ন
  • নেত্রকোনায় লরিচাপায় বৃদ্ধা নিহত
  • নিকলীতে সরকারি চর দখলের অভিযোগ
  • ঢাকার ৩ স্থানে আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ
  • আসন্ন রমজানে দেশে এলপি গ্যাসের সংকট হবে না: বিইআরসি চেয়ারম্যান
  • আজ বৃহস্পতিবার, ২ মাঘ, ১৪৩২ | ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
    বিনোদন

    বিশেষ ডায়েটে মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণ করে ১৮ কেজি ওজন ঝরালেন আমির খান

    বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
    বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:০৫ পিএম

    বিশেষ ডায়েটে মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণ করে ১৮ কেজি ওজন ঝরালেন আমির খান

    বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
    ছবি: সংগৃহীত

    সিনেমা নিয়ে আমির খান যেমন খুঁতখুঁতে তেমনই নিজের ফিটনেস নিয়েও ভীষণ সচেতন থাকেন। তাই তো ভক্তদের চোখ ফাঁকি দিতে পারেননি আমির। ২০২৫ সালে আমির খানের চেহারায় হঠাৎ পরিবর্তন চোখে পড়ে অনেকেরই। স্বাভাবিকের তুলনায় ওজন বেশ খানিকটা বেড়ে যাওয়ায় গুঞ্জন শুরু হয়-নতুন কোনো চরিত্রের জন্য কি নিজেকে ভাঙছেন তিনি? কিন্তু জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আমির নিজেই জানিয়ে দেন আসল কারণ। 

    জনপ্রিয় এক বিনোদন পোর্টালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি অকপটে স্বীকার করেন, এই ওজন বৃদ্ধি কোনো চরিত্রের জন্য নয়, বরং দীর্ঘদিনের মাইগ্রেনের চিকিৎসার অংশ হিসেবে নেওয়া স্টেরয়েডই এর মূল কারণ।

    মার্চ মাসেই ৬০ পেরিয়ে ৬১ বছরে পা দেবেন বলিউড অভিনেতা আমির খান। স্বাস্থ্যকে নতুন করে অগ্রাধিকার দিয়েই ২০২৬ সালে পা রেখেছেন আমির খান। সম্প্রতি তিনি জানান, একটি প্রদাহ-বিরোধী (অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি) ডায়েট অনুসরণ করে তিনি প্রায় ১৮ কেজি ওজন কমিয়েছেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো-এই সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন কোনো নির্দিষ্ট চেহারার জন্য নয়, বরং দীর্ঘদিনের মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যেই করেছেন।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই রূপান্তর নিয়ে হালকা হাসিতে আমির বলেন, ‘১৮ কিলো, আসলে। এটা পরিকল্পিতভাবে ওজন কমানোর চেষ্টা ছিল না। স্বাস্থ্যগত কারণে যে ডায়েটটা আমি অনুসরণ করছি, সেটাই আমার জন্য জাদুর মতো কাজ করেছে।’

    তিনি আরও যোগ করেন বলেন ‘আমি মাইগ্রেনের জন্য এই ডায়েট শুরু করেছিলাম। এটা প্রদাহ-বিরোধী ডায়েট। শুধু ওজনই কমেনি, আমার মাইগ্রেনের ব্যথাও অনেকটাই কমে গেছে।’ 

    অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটারি বা প্রদাহ-বিরোধী ডায়েট কী?

    এ প্রশ্নের উত্তর জানার আগে জানতে হবে ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ কী? প্রদাহ হল একটি শারীরিক বিক্রিয়া যা শরীরের জন্য যেমন জরুরি, তেমনই অতিমাত্রায় হলে শরীরের নানা ক্ষতিও হতে পারে। 

    পুষ্টিবিদ গুঞ্জন তানেজা খানিক ব্যাখ্যা করে বলছেন, ‘‘রোগের সঙ্গে লড়াই করার যে ক্ষমতা, তার জন্য প্রদাহ জরুরি। আবার সেই প্রদাহই যখন বেড়ে যায়, তখন তা ক্যানসারের মতো জটিল অসুখেরও কারণ হতে পারে।’’ তাই প্রদাহকে নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার। আর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটারি ডায়েট সেই কাজটিই করে।

    প্রদাহ-বিরোধী ডায়েট মূলত এমন একটি খাদ্যাভ্যাস, যা শরীরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। দীর্ঘদিনের প্রদাহকে মাইগ্রেন, জয়েন্টের ব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি এমনকি নানা জটিল রোগের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

    এই ডায়েটে সাধারণত গুরুত্ব দেওয়া হয় তাজা শাকসবজি, ফলমূল, গোটা শস্য, বাদাম, বীজ এবং জলপাই তেলের মতো স্বাস্থ্যকর চর্বিকে। পাশাপাশি অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার, পরিশোধিত চিনি, ট্রান্স ফ্যাট ও অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    যদিও আমির তার নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকার খুঁটিনাটি প্রকাশ করেননি, তবে তার অভিজ্ঞতা থেকেই স্পষ্ট-খাবারের ধরন পরিবর্তন শুধু বাহ্যিক পরিবর্তনই আনেনি, বরং ভেতর থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পথও খুলে দিয়েছে।

    আমির খানের এই যাত্রা আসলে শুধু ওজন কমানোর গল্প নয়। এটি স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এক বাস্তব উদাহরণ। তার অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, সঠিক চিকিৎসা, সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের পরিবর্তন একসঙ্গে কাজ করলে জটিল সমস্যার সঙ্গেও লড়াই করা সম্ভব।

    এই ধরনের ডায়েটের বিশেষত্ব কী?

    পুষ্টিবিদ শিখা সিংহের মতে শরীরে প্রদাহ বাড়লেই শরীরে ফ্যাট জমতে শুরু করে। রোজের ডায়েটে প্রচুর পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি এবং অ্যালকোহল রাখলে, ধূমপান করলে, অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকলে, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে, শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা থাকলে— শরীরে প্রদাহ হতে পারে। প্রদাহ বাড়লে শরীর সাইটোকাইন নামক একটি প্রদাহজনক রাসায়নিক নিঃসরণ করে যা ইনসুলিন এবং লেপটিনের মতো হরমোনের কার্যকারিতা ব্যাহত করে। এই হরমোনগুলি মূলত রক্তে শর্করার মাত্রা ও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত। সব মিলিয়ে শরীরের আনাচকানাচে মেদ জমতে শুরু করে।

    এই ডায়েটে কী কী রাখা যাবে না?

    ১) অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় যেমন নরম পানীয়, প্যাকেটবন্দি ফলের রস।

    ২) পলিআনস্যাচুরেড ফ্যাটযুক্ত তেল যেমন সূর্ষমুখীর তেল।

    ৩) প্রক্রিয়াজাত খাবার, ভাজাভুজি, রাস্তার ধারের মশলাদার খাবার।

    ৪) ফুল ফ্যাট ডেয়ারি খাবার যেমন দই, মাখন, চিজ়।

    ৫) প্রক্রিয়াজাত মাংস যেমন সসেজ়, সালামি, বেকন।

    ৬) অ্যালকোহলযুক্ত কোনও পানীয়।

    ৭) পরিশোধিত দানাশস্য যেমন সাদা চাল, ময়দা।

    বদলে কী খাওয়া যাাবে?

    যে সমস্ত খাবার প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে এমন খাবার ডায়েটে রাখতে হবে। যেমন তাজা ফলমূল, শাকসব্জি, ডাল, মাছ, বাদাম, দই, ছানা, ওট্স, ব্রাউন রাইস ইত্যাদি। ভারতীয় রান্নাঘরে থাকা বেশ কিছু মশলা যেমন, হলুদ, আদা, রসুনও কমাতে পারে প্রদাহ।

    এইচএ

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…