মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
স্থানীয় বাজারগুলোতে ১২ কেজি এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও পর্যাপ্ত সিলিন্ডার না থাকায় ক্রেতাদের খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। বিশেষ করে গৃহস্থালি রান্না, হোটেল-রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকান ও বেকারির মতো ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গজারিয়ার অধিকাংশ পরিবার প্রাকৃতিক গ্যাস সুবিধার বাইরে থাকায় এলপি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। সংকটের কারণে অনেক পরিবার নিয়মিত রান্না করতে পারছেন না। বিকল্প হিসেবে বাইরে থেকে খাবার কিনতে গিয়ে বাড়ছে সংসার ব্যয়। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো পড়ছে সবচেয়ে বড় আর্থিক চাপে।
স্থানীয় এক গৃহিণী বলেন, “এক সিলিন্ডার গ্যাস কিনতেই এখন অনেক টাকা লাগে। আবার কিনতে গেলেও পাওয়া যায় না। রান্না করা নিয়েই দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে।”
এছাড়া হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র খাদ্য ব্যবসায়ীরা জানান, গ্যাসের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। লাভ কমে যাওয়ায় অনেক ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
সরকারি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, দেশে এলপি গ্যাসের মজুদ রয়েছে এবং এটি মূলত কৃত্রিম সংকট। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি জটিলতা, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে তদারকির অভাবও সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গজারিয়ার সাধারণ মানুষ দ্রুত এলপি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করা ও নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এই সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন,“এ বিষয়ে বর্তমানে আমার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি সম্পর্কে দ্রুত খোঁজখবর নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এনআই