গভীর রাতে হানা দিচ্ছে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল। সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে চোর-ডাকাতের উপদ্রব।বাড়িতে চুরির সময় চোর-ডাকাতদের প্রধান টার্গেট গরু। এছাড়া মাঝে মধ্যে ছোটখাটো যানবাহন ও অন্যান্য জিনিপত্র চুরির ঘটনাও ঘটছে। এতে আতঙ্কে গ্রামবাসীরা। ডাকাতের যন্ত্রনায় অতিষ্ট হয়ে স্থানীয়রা নিয়েছেন এক অভিনব উদ্যোগ।
যে নদী দিয়ে গ্রামে ঢোকে ডাকাতদল সেই নদীতেই বাঁশের বেড়া দিয়েছেন তারা। ঘটনাটি ঘটেছে চলনবিল অধ্যুষিত পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার গুমানি নদীতে। এ ঘটনা জানাজানির পর এলাকায় চলছে নানা আলোচনা।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের বেতুয়ান গ্রামের গুমানি নদীর মাঝ অংশে একটির পর একটি বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বাঁশের বেড়া। তবে একটি অংশে নৌ-চলাচলের পথ রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, শীতকালে কুয়াশার কারণে নৌপথে চোর-ডাকাতদের দৌরাত্ম্য কিছুটা বেড়ে যায়। সম্প্রতি উজানে ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের অষ্টমনিষা বাজারে সোনার দোকানে ডাকাতি ও কয়েকটি পৃথক গরু চুরির ঘটনা নৌ-পথেই সংঘটিত হয়। পরবর্তীতে দুর্বৃত্তরা ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে গুমানি নদী দিয়ে ভাটির দিকে পালিয়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে গরু চুরিসহ কিছু ঘটনায় এলাকার জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এজন্য গ্রামবাসীর উদ্যোগে গুমানি নদীতে বাঁশের বেড়াটি দেওয়া হয়েছে।
দিলপাশার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম সজিব খান জানান, গুমানি নদীর মাঝ বরাবর বেড়ার বাঁশ-খুঁটি দিয়ে গ্রামের মানুষ স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে কাজটি করেছেন। যাতে গভীর রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা নৌকাযোগে অবাধে এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মোস্তাফিজুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, নৌ-পথে গরু চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। ফলে তারা গুমানির নদীর মাঝ বরাবর বেড়াটি দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে। তবে দিনে যাতে নৌকা চলাচল বাধাগ্রস্ত না হয়; সেটা দেখাশোনার জন্য গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক লোক নিয়োগ করা আছে।
এসআর