চুল পড়া পুরুষদের মধ্যে একটি খুবই সাধারণ সমস্যা। চুলের আকার ছোট হোক বা বড়, ঘন চুলের চাহিদা কখনওই কমে না। প্রতি দিন যে পরিমাণ চুল ঝরে, জৈবিক নিয়মে তত পরিমাণ চুলই গজায়। কিন্তু এই অনুপাত সব সময়ে সমান থাকে না। চুল গজানোর চেয়ে ঝরে যাওয়ার পরিমাণ বেড়ে গেলেই বিপত্তি আসে।যদিও জিনগত কারণ এখানে বড় ভূমিকা রাখে, তবে কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস চুল পড়ার সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। অনেক সময় অজান্তেই জীবনযাপন ও চুলের যত্নে ভুলের কারণে চুলের ক্ষতি হয়। বেশির ভাগ ছেলেই চুলের যত্নের প্রতি উদাসীন থাকেন। ফলস্বরূপ অকালেই টাক পড়তে শুরু করে মাথায়। তাঁরা অজান্তেই এমন কিছু ভুল করে বসেন, যাতে চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। জেনে নিন কোন কোন ভুল অজান্তেই করে ফেলেন পুরুষরা।
নিচে পুরুষদের বেশি চুল পড়ার পেছনে দায়ী অভ্যাস তুলে ধরা হলো:
অতিরিক্ত মানসিক চাপ: ঠিক সময়ে খাওয়াদাওয়া বা ঘুম না হলে তার ছাপ পড়ে মনের উপর। যে কারণে দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি চক্রে ব্যাঘাত ঘটায়। এর ফলে চুলের গোড়া বিশ্রাম পর্যায়ে চলে যায় এবং অস্বাভাবিকভাবে চুল ঝরে পড়ে। কাজের চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ও দুশ্চিন্তা এর প্রধান কারণ। রোজ নিয়ম করে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমোতে হবে।
অপুষ্টিকর খাবার ও পুষ্টির ঘাটতি: প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, বায়োটিন ও প্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাব চুলের গোড়া দুর্বল করে দেয়। নিয়মিত ফাস্টফুড খাওয়া ও সুষম খাবার এড়িয়ে চললে চুল পাতলা হয়ে যাওয়া ও ভেঙে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।
অতিরিক্ত হেয়ার স্টাইলিং প্রোডাক্ট ব্যবহার: নিয়মিত জেল, ওয়াক্স, স্প্রে ও কেমিক্যালযুক্ত পণ্য ব্যবহার করলে চুলের গোড়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং স্ক্যাল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর সঙ্গে ঘন ঘন হিট স্টাইলিং চুলকে আরও দুর্বল করে তোলে।
ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান: ধূমপান মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন কমিয়ে দেয়, ফলে চুলের গোড়ায় অক্সিজেন ও পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়। অতিরিক্ত মদ্যপানে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি নষ্ট হয়, যা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
ভুলভাবে চুলের যত্ন নেওয়া: খুব ঘন ঘন চুল ধোয়া, কঠিন কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার, তোয়ালে দিয়ে জোরে চুল মোছা বা ভেজা চুল আঁচড়ানো চুল ভাঙা ও পড়ার কারণ হতে পারে। স্ক্যাল্প পরিষ্কার না রাখলে খুশকি ও সংক্রমণও দেখা দিতে পারে।
সব ধরনের চুল পড়া পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হলেও, এসব অভ্যাস পরিবর্তন করলে চুল পড়া অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও যত্নবান চুল পরিচর্যা পুরুষদের চুল সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এইচএ