এইমাত্র
  • এক ধাপ অবনতি, দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ১৩তম: টিআইবি
  • এবারের ইলেকশনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো সুযোগ নেই: মির্জা ফখরুল
  • বেনাপোল-পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী যাতায়াত বন্ধ
  • প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাদ্য মজুত আছে, যিনি আসবেন চাপ হবে না : খাদ্য উপদেষ্টা
  • রাশেদ খানের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
  • ভালুকায় শেষ মুহূর্তে উত্তাপ, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
  • মবের চেষ্টা করলে শুধু কেন্দ্র নয়, আসনের ভোট স্থগিত হবে: আইজিপি
  • ভাঙ্গুড়ায় গণঅধিকার পরিষদের ১৫ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান
  • বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আলী মামুদের মরদেহ উদ্ধার
  • গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’: বাকৃবিতে বিভক্ত মত, তর্ক-বিতর্কে মুখর ক্যাম্পাস
  • আজ মঙ্গলবার, ২৭ মাঘ, ১৪৩২ | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    ভারত ভ্রমণে শর্ত আরোপে বেনাপোলে যাত্রী কমেছে সাড়ে ১৩ লাখ

    মো. জামাল হোসেন, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৪১ পিএম
    মো. জামাল হোসেন, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৪১ পিএম

    ভারত ভ্রমণে শর্ত আরোপে বেনাপোলে যাত্রী কমেছে সাড়ে ১৩ লাখ

    মো. জামাল হোসেন, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৪১ পিএম

    ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েনের প্রভাব পড়েছে ভ্রমণ খাতে। ভিসা প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি, একের পর এক শর্ত আরোপ এবং ভ্রমণ কর বৃদ্ধির কারণে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতগামী যাত্রী উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত ভ্রমণে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত কমেছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৪ জন।


    বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসা, ব্যবসা ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে প্রতিবছর বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত–বাংলাদেশের মধ্যে ২০ থেকে ২২ লাখ পাসপোর্টধারী যাতায়াত করতেন। এতে উভয় দেশের যাত্রীরা যেমন সুবিধা পেতেন, তেমনি ভ্রমণ খাত থেকে বাংলাদেশ সরকারের প্রায় ১৫০ কোটি টাকা এবং ভারত সরকারের প্রায় ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হতো।


    তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারত সরকার বাংলাদেশিদের জন্য ভিসার মেয়াদ সংক্ষিপ্ত করা, নানা শর্ত আরোপ এবং ভ্রমণ কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে ভ্রমণ খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী ভিসা না পাওয়ায় বাংলাদেশি যাত্রীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।


    বেনাপোল স্থলবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত–বাংলাদেশের মধ্যে মোট ২০ লাখ ১৪ হাজার ১২ জন দেশি ও বিদেশি পাসপোর্টধারী যাতায়াত করেছেন। এর মধ্যে ভারতে গেছেন ১০ লাখ ১৮ হাজার ৭৫ জন এবং ভারত থেকে ফিরেছেন ৯ লাখ ৯৫ হাজার ৯৩৭ জন।


    অন্যদিকে ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত যাতায়াত করেছেন মাত্র ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৯২৮ জন। এর মধ্যে ভারতে গেছেন ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৮ জন এবং ভারত থেকে ফিরেছেন ৩ লাখ ২২ হাজার ২২০ জন। এতে দেখা যাচ্ছে, এক বছরের ব্যবধানে যাত্রী যাতায়াত কমেছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৪ জন। ফলে ভ্রমণ খাতে ভারত সরকারের রাজস্ব কমেছে আনুমানিক ১২১ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকারের কমেছে প্রায় ১৪৩ কোটি টাকা।


    সর্বশেষ দুই দিনে (শুক্রবার ও শনিবার) বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে গেছেন মাত্র ২ হাজার ৯৮৯ জন। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে দৈনিক ৫ থেকে ৭ হাজার পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করতেন, সেখানে বর্তমানে সংখ্যা নেমে এসেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।


    পাসপোর্টধারী আনিছুর রহমান বলেন, ‘ভিসা পেতে এখন অনেক টাকা ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। তিনবার আবেদন করার পর মেডিকেল ভিসা পেয়েছি। এরপরও সিরিয়াল কিনতে পাসপোর্টপ্রতি ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা প্রয়োজন।’


    বেনাপোল বন্দরের ট্রাভেল এজেন্সির স্বত্বাধিকারী আজিজুল হক বলেন, বর্তমানে ভারত ভ্রমণে বাংলাদেশ সরকারকে ভ্রমণ কর ১ হাজার ৬১ টাকা, ভারতীয় দূতাবাসকে ভিসা ফি ১ হাজার ৫০০ টাকা, ভিসা সিরিয়াল বাবদ ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা এবং ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে প্রায় ৬০০ টাকা দিতে হয়। এ ছাড়া পাসপোর্ট জমা দিতে ঢাকায় যাতায়াত বাবদ আরও প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ হয়। সব মিলিয়ে একজন যাত্রীর ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। ফলে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ভারত ভ্রমণে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।


    বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) কাজী রতন বলেন, ‘ভিসা প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি ও নানা শর্তের কারণে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত ক্রমেই কমে আসছে। গত বছরের তুলনায় যাত্রী কমেছে সাড়ে ১৩ লাখের বেশি।’


    ভুক্তভোগী যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…