ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, যশোরের শার্শা আসনে ততই বাড়ছে উদ্বেগ। নির্বাচনী প্রচারের পাশাপাশি পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, ব্যানার পোড়ানো আর বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় তৈরি হয়েছে আতঙ্কের পরিবেশ। রাজনৈতিক উত্তেজনার এই আবহে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সাধারণ ভোটাররা—তাঁদের প্রশ্ন, ভোটের দিন পরিস্থিতি কতটা নিরাপদ থাকবে?
এই আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াতের মুহাম্মদ আজীজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল (লাঙ্গল) এবং ইসলামী আন্দোলনের বক্তিয়ার রহমান (হাতপাখা)। মাঠপর্যায়ের হিসাব অনুযায়ী, মূল প্রতিযোগিতা দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, যশোর-১ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১১ হাজার ৬৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮০৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮২৩ জন এবং হিজড়া ভোটার তিনজন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ১০২টি ভোটকেন্দ্রের ৫৭৭টি ভোটকক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দায়িত্ব পালন করবেন ১ হাজার ৮৩৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।
নিরাপত্তার দিক বিবেচনায় এই আসনের ১০২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫১টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শার্শা উপজেলায় ৬৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৫টি এবং বেনাপোল পৌর এলাকার ৩৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৬টি ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, পরিস্থিতি ততই জটিল হয়ে উঠছে। সম্প্রতি শার্শা উপজেলার বালুন্ডা এলাকায় মাটি কাটার সময় শ্রমিকের কোদালের আঘাতে মাটির নিচে পুঁতে রাখা একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। এতে তিনজন শ্রমিক গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ ছাড়া রবিবার গভীর রাতে শার্শার লক্ষণপুর ইউনিয়নের শিকারপুর বাজারে বিএনপি প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটনের ছয়টি ব্যানার পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দোষারোপও শুরু হয়েছে।
জামায়াত প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে ভীতিকর পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী দাবি করেছেন, জামায়াত নিজেরাই সহিংসতা ঘটিয়ে দায় চাপানোর অপচেষ্টা করছে।
উভয় পক্ষই নারী ভোটার ও কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলেছে। পাশাপাশি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। বিএনপি প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন অভিযোগ করেন, নির্বাচনবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তবে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, “যশোর-১ আসন একটি বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা সব আসনে একইভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি এবং এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রস্তুত আছি।”
নির্বাচনের আগে এমন উত্তেজনা ও নিরাপত্তা শঙ্কার মধ্যে ভোটাররা চান শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে।
ইখা