শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘গেজানি’র আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত মাদাগাস্কারের প্রধান বন্দরনগরী তুয়ামাসিনা। ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার বেগের ঝড়ে অন্তত ৩১ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ধসে পড়েছে অসংখ্য বাড়িঘর, অন্ধকারে ডুবে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। চলতি বছর দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড়ের এই আঘাতে নতুন করে গভীর সংকটে পড়েছে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এই দ্বীপরাষ্ট্রটি।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশ মাদাগাস্কারে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ‘গেজানি’ নামের এই ঘূর্ণিঝড় গত মঙ্গলবার উপকূলে আঘাত হানে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর তুয়ামাসিনা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর জানিয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত এলাকায় ‘সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল’ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বহু বাড়িঘর ধসে পড়ে এবং সেখান থেকেই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে যাওয়ায় বহু এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। উপড়ে পড়ে অসংখ্য গাছ, উড়ে যায় ঘরের ছাদ। গত বছরের অক্টোবরে ক্ষমতা দখল করা দেশটির সামরিক নেতা কর্নেল মাইকেল র্যান্ড্রিয়ানিরিনা বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘যা ঘটেছে তা এক ভয়াবহ বিপর্যয়। তুয়ামাসিনা শহরের প্রায় ৭৫ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি মাদাগাস্কারের একার পক্ষে সামাল দেয়া সম্ভব নয়’। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রান্সের রিইউনিয়ন দ্বীপভিত্তিক সিএমআরএস ঘূর্ণিঝড় পূর্বাভাসকেন্দ্রের মতে, স্যাটেলাইট যুগে তুয়ামাসিনার আশপাশে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে এটি সম্ভবত সবচেয়ে তীব্র ঝড়ের একটি।
জাতীয় ঝুঁকি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয় জানায়, অনেকেই বাড়িঘর ধসে পড়ায় প্রাণ হারিয়েছেন। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর তুয়ামাসিনায় ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার (১৫৫ মাইল) বেগে বাতাস বয়ে যায়।
মানবিক সহায়তাসংস্থা অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রধান রিজা র্যান্ড্রিয়ানারিসোয়া এএফপিকে বলেন, ‘পুরোপুরি বিশৃঙ্খল অবস্থা। প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়ির ছাদ আংশিক বা সম্পূর্ণ উড়ে গেছে।’
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর জানায়, তুয়ামাসিনা শহরসংলগ্ন একটি এলাকা থেকে ডজনখানেক আহত ব্যক্তি ও শত শত বাসিন্দাকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। শহরটিতে প্রায় চার লাখ মানুষ বসবাস করেন।
ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানার সময় তুয়ামাসিনা ও আশপাশের বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের দৃশ্যের বর্ণনা দিয়েছেন। হারিমাঙ্গা রানাইভো বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এত ভয়াবহ বাতাস আমি কখনও দেখিনি... লোহার দরজা-জানালাও প্রবলভাবে কাঁপছিল।’
এ বছর মাদাগাস্কারে আঘাত হানা এটি দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড়। জাতিসংঘের মানবিক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১০ দিন আগে ট্রপিক্যাল সাইক্লোন ‘ফাইটিয়া’র আঘাতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং আরও ৩১ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন।
এদিকে মাদাগাস্কারের আবহাওয়া অধিদপ্তর বুধবার সকালে জানায়, গেজানি দুর্বল হয়ে মাঝারি মাত্রার ট্রপিক্যাল ঝড়ে পরিণত হয়েছে এবং পশ্চিমমুখে অগ্রসর হয়ে রাজধানী আনতানানারিভোর প্রায় ১০০ কিলোমিটার (৬০ মাইল) উত্তরে স্থলভাগে অবস্থান করছে। অধিদপ্তর জানায়, ‘গেজানি আজ পূর্ব থেকে পশ্চিমে মধ্যাঞ্চলের উচ্চভূমি অতিক্রম করবে এবং সন্ধ্যা বা রাতে মোজাম্বিক চ্যানেলে গিয়ে সমুদ্রে প্রবেশ করবে।’
এবি