কক্সবাজারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে জেলার চারটি সংসদীয় আসনের ৫৯৮টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট নেওয়া শুরু হয়। শুরুতে কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেলেও নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কড়া।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর, চকরিয়া-পেকুয়া, উখিয়া-টেকনাফ ও মহেশখালী-কুতুবদিয়া- এই চারটি আসনে মোট ভোটার ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫৭ জন। ৫৯৮টি ভোটকেন্দ্রের ৩ হাজার ৬৮৯টি কক্ষে ভোটগ্রহণ পরিচালনা করছেন ১২ হাজার ২৫১ জন নির্বাচন কর্মকর্তা। এর মধ্যে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রয়েছেন ৪ হাজার ৫০৩ জন এবং পোলিং কর্মকর্তা ৭ হাজার ৭৪৮ জন।
নির্বাচন ঘিরে জেলায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোট ১৩ হাজার ৪৯৯ সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ২ হাজার ১৬৬ জন সেনাসদস্য, ৮৮০ জন বিজিবি সদস্য, ৩৯৯ জন নৌবাহিনীর সদস্য, ৫০ জন বিমানবাহিনীর সদস্য, ১৪৫ জন কোস্টগার্ড সদস্য, ৮০ জন র্যাব সদস্য, ১৯০ জন আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য ও ১ হাজার ৮১৫ জন পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া ৭ হাজার ৭৭৪ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতি কেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন।
ভোটের দিন, আগের সময় এবং পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকা, সীমান্ত ও উপকূলীয় অঞ্চল এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে টহল, তল্লাশি ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম জানান, ৩৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে কাজ করছে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, এপিবিএন ও আনসার সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভোট গ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এরপর শুরু হবে গণনা। জেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এসআর