ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৪ (খানসামা–চিরিরবন্দর) আসনে দুই প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, ‘হাতপাখা’ ও ‘লাঙ্গল’ প্রতীকের প্রার্থীরা মোট কাস্ট হওয়া ভোটের এক-অষ্টমাংশ অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে বিজয়ী হয়েছেন মো. আখতারুজ্জামান মিয়া। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭১৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর প্রার্থী মো. আফতাব উদ্দিন মোল্লা ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে অর্জন করেছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৬ ভোট। ফলে প্রায় ৩৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় ধানের শীষের প্রার্থীর।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর-৪ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ২১ হাজার ২৭৮ জন। এর মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৩ লাখ ৬ হাজার ৯৯১ জন ভোটার। নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট কাস্ট হওয়া ভোটের অন্তত ১/৮ অংশ অর্জন করতে হয়। সে হিসাবে এ আসনে জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ৩৮ হাজার ৩৭৪টি ভোট।
কিন্তু বাকি দুই প্রার্থী সেই নির্ধারিত ভোটসংখ্যা থেকে অনেক পিছিয়ে পড়েন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসাইন ‘হাতপাখা’ প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৬৯৯ ভোট। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি–এর প্রার্থী মো. নুরুল আমিন শাহ ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ১৫২ ভোট। ফলে তারা দুজনই প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ভোটসংখ্যা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে জামানত হারিয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে দিনাজপুর-৪ আসনটি ছিল বেশ আলোচনায়। ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির প্রভাবশালী এলাকা হিসেবে পরিচিত এই আসনে প্রধান লড়াই হয় বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে। ভোটের শুরু থেকেই দুই দলের নেতাকর্মীদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রচার-প্রচারণায়ও ছিল ব্যাপক সরব উপস্থিতি। তবে ভোট গণনার পর ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপি প্রার্থী শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান আরও বাড়ান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক হওয়ায় ফলাফলে বড় ধরনের চমক দেখা যায়নি। বরং পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রধান দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে, আর অন্য দুই প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ভোট সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছেন।
নির্বাচনী বিধান অনুযায়ী, জামানত হারানো প্রার্থীদের জমাকৃত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়। এটি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ ন্যূনতম ভোটসংখ্যা অর্জন করতে না পারলে রাজনৈতিকভাবে যেমন বার্তা যায়, তেমনি আর্থিক ক্ষতিও গুনতে হয়।
সব মিলিয়ে দিনাজপুর-৪ আসনে এবারের নির্বাচনে প্রধান লড়াই সীমাবদ্ধ ছিল ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে। অন্য দুই প্রতীকের প্রার্থীরা প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ায় ভোটের ব্যবধানে বড় পার্থক্য তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তারা জামানত রক্ষা করতে পারেননি।
এনআই