রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ মাদক, চাঁদাবাজি ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এর প্রসঙ্গ টেনে এমপি চাঁদ বলেন, “আওয়ামী লীগ যেভাবে গেছে, আমি সেভাবে যেতে চাই না। শাহরিয়ার যেভাবে পালিয়ে গেছে, আমি সেভাবে পালাতে চাই না। আমি দেশের মানুষের সঙ্গে থাকতে চাই। ১০ দিনের জন্য থাকলেও মানুষকে শান্তি দিতে চাই।”
মাদকের বিষয়ে আপসহীন অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন,“বিএনপির লোক হলেও যারা ফেনসিডিল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের থানায় নিয়ে এসে বাঁধেন। কোনো নেতা যদি তদবির করতে যায়, তাকেও ধরবেন। মাদকের সঙ্গে আমার কোনো আপোস হবে না।”
তিনি বাঘা থানার ওসিকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পুলিশের কোনো সদস্য মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মাসিক বা সাপ্তাহিক চুক্তিতে জড়িত থাকলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। প্রয়োজনে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তোলা হবে বলেও জানান তিনি।
বিজিবির অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদক ‘পরিত্যক্ত’ দেখিয়ে মামলা দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মাল ধরলেন, আসামি কই? মানুষ কি এটা বিশ্বাস করবে?”
চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে ছয় মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে এমপি বলেন, দেশের মানুষ যেন চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে বাধ্য না হয়, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
তিনি প্রশ্ন করেন, “আমাদের ডাক্তাররা কি লেখাপড়া জানেন না? নাকি নকল করে পাস করেছেন? আমরা চাই, দেশের মানুষ দেশেই উন্নত চিকিৎসা পাক।”
বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে তিনি ছয় মাসের মধ্যে সেবার মান উন্নয়নের আহ্বান জানান এবং প্রয়োজন হলে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন।
চাঁদাবাজি, অবৈধ বালুঘাট, সুদের কারবার ও ভূমি দখলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে এমপি চাঁদ বলেন, “আমাকে ঢাকা বা বিদেশে বাড়ি করতে হবে না। আমি কোনো চাঁদাবাজকে প্রশ্রয় দেব না। আমার দলের লোক হলেও তাকে হাজতে ঢোকান।”
তিনি আরও বলেন, “ছয় মাসের মধ্যে পরিবর্তন চাই। প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করা যাবে না।”
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, থানায় গিয়ে কোনো দালালি করা যাবে না। যে অবৈধ কাজ করবে, সে জেলখানায় যাবে সে যে-ই হোক।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আশাদুজ্জামান আসাদ। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার, বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হকসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
সভা শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীরা মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এমপির অবস্থানকে সমর্থন জানান।
এনআই