একটি বছর ঘুরে আবারো মুমিনের জীবনে উপস্থিত হয়েছে পবিত্র রমজান। একজন মুসলিমের জন্য রমজান মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আমলের মাস। এটি আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য, সংযম, ত্যাগ ও অপরের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের মাস। অন্যান্য মাসে আমাল-ইবাদাত বা ভালো কাজ করলে যে পরিমাণ সওয়াব হয়, রমজান মাসের আমলে তার সত্তর গুণ বেশি সওয়াব হয়।
রমজানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানবতার সেবা করা। এই মাস আমাদের আত্মশুদ্ধির পাশাপাশি অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল, ভালোবাসা প্রকাশ এবং সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের প্রয়োজন মিটাতে উদ্বুদ্ধ করে। পবিত্র রমজানের রোজা পালনের মাধ্যমে সংযমের পাশাপাশি একজন মুমিনের হৃদয়ে দয়া, সহমর্মিতা এবং উদারতার গুণাবলি বিকশিত হয়।
রমজানে আমরা সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, অসহায়, ক্ষুধার্ত এবং দরিদ্রদের সাহায্য-সহায়তা করার মাধ্যমে, তাদের সাহরি ও ইফতারির ব্যবস্থা করা ও তাদের নিত্যদিনের প্রয়োজন পুরোনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ করতে পারি। আল্লাহ তায়ালার রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধিক হাদিসে রমজানে বেশি বেশি দান-ছাদকা বা মানবতার সেবা করার কথা বলেছেন। এ ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করেছেন এবং বলেছেন, রমজান মাসে দান-ছাদকা করলে, গরীব-অসহায়দের আহার করালে অন্যান্য মাসের থেকে সত্তর গুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়।
হাদিসের সবথেকে গ্রহণযোগ্য কিতাব সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধন-সম্পদ ব্যয় করার ব্যাপারে সকলের চেয়ে দানশীল ছিলেন। রমজানে জিবরীল আলাইহিস সালাম যখন তার সাথে দেখা করতেন, তখন তিনি আরো অধিক দান করতেন। রমজানের প্রতি রাতেই জিবরীল আলাইহিস সালাম তার সাথে একবার সাক্ষাৎ করতেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কোরআন শোনাতেন। জিবরীল আলাইহিস সালাম যখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন তখন তিনি রহমত প্রেরিত বায়ূর চেয়ে অধিক ধন-সম্পদ দান করতেন।
অন্য একটি হাদিসে এসেছে। এক মজলিসে রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সাওম ও সদাকা একত্রিত হলে জান্নাত পাওয়া অত্যাবশ্যকীয় হয়ে যায়।
জান্নাতে একটি প্রাসাদ রয়েছে যার ভিতর থেকে বাহির এবং বাহির থেকে ভিতর পরিদৃষ্ট হবে। তখন এক বেদুঈন উঠে দাঁড়ালেন, বললেন, হে আল্লাহর রসুল এটি কার হবে? তিনি বললেন, এটি হবে তার যিনি ভালো কথা বলে, অন্যকে খাদ্য খাওয়ায়, সর্বদা সাওম পালন করে এবং যখন রাতে মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তখন সে উঠে সালাত আদায় করে।
রমজান আমাদের ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। ধনী-গরিব, ছোট-বড় সবাই একসঙ্গে ইফতার করে, নামাজ পড়ে, তারাবিহ আদায় করে এবং একে অপরের প্রতি উদারতা দেখায় এবং একসঙ্গে অধিক সময় কাটানোর সুযোগ পায়। এই মাসে আমরা শিখি- কীভাবে সমাজে মিলেমিশে একতাবদ্ধ হয়ে বাস করতে হয়, কীভাবে একে অপরকে সাহায্য করতে হয়, কীভাবে অসহায়, দারিদ্রদের কল্যাণে তাদের পাশে দাঁড়াতে হয়।
অন্যান্য ইবাদাতের পাশাপাশি সমাজসেবা রমজানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা এবং সেরা সময়। এই মাসে মানবতার কল্যাণে কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুললে সারাবছরই এই চেতনা আমাদের মধ্যে জাগ্রত থাকবে। জাগ্রত রাখতে হবে। এই মাসে ইবাদতের পাশাপাশি আমাদের উচিত অসহায় ও দরিদ্রদের সাহায্য করা, দান-সদকা করা এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করা।
আল্লাহ আমাদেরকে এই বরকতময় মাসের প্রতিটি ইবাদাতকে রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বলে দেওয়া উপায়ে যথাযথভাবে পালন করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
এফএস