রমজান মাস মুসলমানদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এই পবিত্র মাসে আল্লাহ তায়ালা ধনী মুসলমানদের ওপর যাকাত ফরজ করেছেন, যা শুধু ইবাদতই নয়, বরং অসহায় ও দরিদ্র মানুষের ন্যায্য অধিকার হিসেবেও বিবেচিত। ইসলামি শরিয়তে যাকাতের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি এবং কোরআন-হাদিসে বারবার এর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই ও মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল—এই সাক্ষ্য দেওয়া, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমজানে রোজা রাখা এবং সামর্থ্য থাকলে হজ করা।” (বুখারি ও মুসলিম)।
এ হাদিস থেকেই স্পষ্ট, যাকাত ইসলামের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ। যাকাত আদায় না করলে শুধু আর্থিক অবহেলাই নয়, বরং তা ঈমানের দুর্বলতারও প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, “যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন, অথচ সে যাকাত দেয়নি, কিয়ামতের দিন তার সম্পদ বিষধর সাপের মতো হয়ে তাকে পেঁচিয়ে ধরবে।” (বুখারি)।
ইসলামের দৃষ্টিতে যাকাত শুধু দান নয়, বরং দরিদ্র মানুষের নির্ধারিত অধিকার। ধনীদের সম্পদে গরিবদের হক রয়েছে—এই ধারণাই যাকাত ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। যাকাত প্রদান সমাজে ধনী-গরিবের বৈষম্য কমায়, সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করে এবং মানবিক সহমর্মিতা জাগ্রত করে।
বিশেষজ্ঞ আলেমরা বলেন, রমজান মাস যাকাত প্রদানের জন্য উত্তম সময়। এই মাসে দান-সদকার সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং সমাজের অসহায় মানুষগুলো উপকৃত হয়।
অতএব, সামর্থ্যবান মুসলমানদের উচিত যথাযথভাবে হিসাব করে যাকাত প্রদান করা এবং তা প্রকৃত হকদারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এতে যেমন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়, তেমনি সমাজে ন্যায় ও মানবিকতার আলো ছড়িয়ে পড়ে।
এফএস