নাটোরের বড়াইগ্রামে এক কলেজছাত্রের আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ সহপাঠীরা মহাসড়ক অবরোধ ও কলেজের গেট ভাঙচুর করেছে।
রবিবার(২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা উপজেলার বনপাড়া পৌর চত্বরে অবস্থান নেয় এবং প্রায় এক ঘণ্টা নাটোর-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় তারা বনপাড়া সেন্ট যোসেফস স্কুল অ্যান্ড কলেজের গেটে ভাঙচুর চালায়।
জানা যায়, রবিবার সকালে বনপাড়া সেন্ট যোসেফস স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ায় বাড়ি ফিরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জানালার পর্দার সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে যোসেফস বর্ণ রোজারিও (১৮)। সে বনপাড়া পৌর শহরের কালিকাপুর মহল্লার বিপ্লব রোজারিও’র ছেলে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে সহপাঠীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, কলেজ কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত টাকা আয়ের লক্ষ্যে ইচ্ছে করে এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষায় অসঙ্গতিপূর্ণ ফলাফল প্রকাশ করেছে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, এই কলেজ থেকে এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নেয় ৫০১ জন; যার মধ্যে পাস করেছে ১০১ জন, ফেল করেছে ৩৮ জন এবং ৩৬২ জনের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। মূলত পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে টাকা আদায়ের জন্যই ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট না পড়লে ফেল করিয়ে দেওয়া হয় বলেও দাবি তাদের। ফলাফল জটিলতা নিরসনের জন্য শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে।
মহাসড়ক অবরোধের ফলে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের তিন দিকে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। খবর পেয়ে জেলা বিএনপির সদস্য ও পৌর বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ এম লুৎফর রহমান, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবিএম ইকবাল হোসেন রাজু ও উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুবায়ের জাহাঙ্গীর, বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস ছালাম ও বনপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সুমন চন্দ্র সাহাসহ পুলিশের একটি টিম এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
এ ব্যাপারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ফাদার ড. শংকর ডমিনিক গমেজ জানান, প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল করানোর জন্য কিছু প্রাতিষ্ঠানিক কৌশল অবলম্বন করা হয়, যার অর্থ টাকা আয় করা নয়। তিনি আরও বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের পড়ার মান অনুযায়ী সার্ভিস ফি নেওয়া হয় না। কোনো বিষয়ে অভিযোগ থাকলে তা অভিভাবকদের সাথে নিয়ে সরাসরি অধ্যক্ষকে বলার পরামর্শ দেন তিনি।
এনআই