ইরানের সীমান্তের কাছে বিপুল সমরাস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আছে রণতরীর বহরও। এছাড়া হাজার হাজার সৈন্য ও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানতো আছেই। এখন শুধু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুকুম পেলেই তারা আগ্রাসন চালাবে ইরানে। এই পরিস্থিতিতেও ভীত নয় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দেশ। এখনো নজিরবিহীন জবাব দিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ধরাশায়ী করার হুঙ্কার দিয়ে যাচ্ছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র। এতে বেশ হতবাক হয়েছেন ট্রাম্প।
ইরান এখনো কেন ‘আত্মসমর্পণের’ মাধ্যমে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হয়নি, বিষয়টি ভাবাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান। খবর বিবিসির।
তিনি বলেন, ‘আমি হতাশ শব্দটি ব্যবহার করতে চাই না, কারণ তিনি (ট্রাম্প) জানেন তার হাতে অনেক বিকল্প আছে। তবে তিনি কৌতূহলী যে কেন তারা এখনো (আমি আত্মসমর্পণ শব্দটি ব্যবহার করতে চাই না) আত্মসমর্পণ করেনি। এতো চাপের মুখেও তারা কেন আমাদের কাছে এসে বলেনি, আমরা অস্ত্র চাই না। তাদের সেই অবস্থানে আনা বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে।’
ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক শক্তি মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। দেশটির বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সম্ভাব্য বিমান হামলার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে ইরান।
ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তেহরান বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ; তবে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে কিছু সীমাবদ্ধতা মেনে নিতে তারা প্রস্তুত। তবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের মতো অন্যান্য ইস্যুতে আলোচনা করতে প্রস্তুত নয় তারা।
উইটকফ বলেন, ‘বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য যে মাত্রা প্রয়োজন, তার চেয়েও অনেক বেশি মাত্রায় তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। এটি ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।’
এনআই