দেশে রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া যেন এক অনিবার্য রেওয়াজ। এবারও সেই একই প্রবণতা দেখা গেছে। ইতিমধ্যে দাম বেড়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফলের। সেই সঙ্গে ইফতার তৈরিতে ব্যবহৃত হয় এমন সবজির দামও এখন বাড়তির দিকে। সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, অদৃশ্য কোনো ইশারায় দিনকয়েক পরপরই বাজার অস্থির হয়ে উঠছে।
পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারে কলার দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। ইফতার ও সেহরিতে ব্যাপক চাহিদাকে কেন্দ্র করে কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতি হালিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। ক্রেতাদের অতিরিক্ত চাহিদা থাকায় কিছুসংখ্যক অসাধু ব্যবসায়ী এ সুযোগ নিচ্ছে। কলার এমন মূল্যবৃদ্ধিতে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।
ক্রেতাদের অভিযোগ, ইফতারের পূর্বে যে কলার হালি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, ইফতারের পর সেই কলার হালি ৪০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রতি হালি কলায় দাম বাড়ছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। তাই ঝড়ের গতিতে বাড়ানো দাম নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তাঁরা।
রমজান মাসকে ঘিরে দাম বৃদ্ধির এমন অস্থিরতায় ইফতারির তালিকা থেকে কলা বাদ দেওয়ার চিন্তা করছেন অনেক মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ। বর্তমানে প্রতিটি কলার দাম বেড়েছে ৩ থেকে ৫ টাকা করে। আর মানভেদে প্রতি হালি কলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে। ফলে এই ফল কিনতে গিয়ে অনেকেই হিমশিম খাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গুড়া উপজেলার শরৎনগর ও ভাঙ্গুড়া বাজারের একাধিক কলা বিক্রেতা জানান, তারা পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কিনেছেন, তাই বেশি দামে বিক্রি করছেন। তবে ইফতারের পর দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তাঁরা বলেন, দাম আগেই বেড়েছে।
এনআই