আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক ধনে পাতা ঘৃণা করা দিবস। মাছ, সবজি, কাঁচামরিটের সঙ্গে বাজারের তালিকায় ‘ধনেপাতা’ থাকায় দেখলে অনেকেরই মেজাজ বিগড়ে যায়। ধনেপাতার স্বাদ-গন্ধ কেউ কেউ সহ্যই করতে পারেন না। আবার অনেকেই ধনেপাতা ছাড়া কিছু কিছু পদ রান্না করার কথা ভাবতেই পারেন না।
ধনেপাতায় রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ, সি, কে, ফলিক অ্যাসিডসহ অ্যান্টি–ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টিহিস্টামিনের মতো উপকারী উপাদান। ধনে পাতা খেলে শরীরে খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমে যায়, ভালো কোলেস্টরলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্যে ধনে পাতা উপকারী। এটি ইনসুলিনের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং রক্তের সুগারের মাত্রা কমায়। এতে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা বাতের ব্যথাসহ হাড় এবং জয়েন্টের ব্যথা উপশমে কাজ করে। ধনে পাতা স্মৃতিশক্তি প্রখর এবং মস্তিষ্কের নার্ভ (স্নায়ু) সচল রাখতে সাহায্য করে। এটিতে অ্যান্টি হিস্টামিন উপাদান রয়েছে, যা অ্যালার্জি বা এর ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে দূরে রাখে।
তবে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কিন্তু কম নয়। খাবারদাবারে এর অতিরিক্ত ব্যবহার বেশ কিছু রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বেশি বেশি ধনেপাতা খেলে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি, বুকে ব্যথা হতে পারে। কমে যেতে পারে লিভারের কার্যক্ষমতা। এমনকি গর্ভস্থ ভ্রূণের ক্ষতিও হয় এতে। অবশ্য ধনেপাতা যাঁদের অপছন্দ, এসব নিয়ে তাঁদের মাথাব্যথা নেই।
ধনিয়ার ইংরেজি ‘করিয়ান্ডার’ এসেছে গ্রিক শব্দ ‘করিস’ থেকে, যার অর্থ তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ানো পতঙ্গ। হ্যাঁ, এই গন্ধের জন্যই অনেকে এটি পছন্দ করেন না। এর থেকে সাবান, লোহা বা পোকামাকড়ের গন্ধ পেয়ে থাকেন তারা। বৈজ্ঞানিক সাময়িকী নেচার প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়েছে যে ধনেপাতা থেকে সাবানের গন্ধ পাওয়ার সঙ্গে জিনগত বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক রয়েছে।
আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি, ধনেপাতা অপছন্দ করা দিবস। ২০১৩ সালে ‘আই হেট করিয়ান্ডার’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপের উদ্যোগে দিনটির চল হয়। ধনেপাতা যাঁরা অপছন্দ করেন, তাঁরা কিন্তু এটি পালন করতে পারেন।
এইচএ