খেলার বয়স এখনো ঠিকমতো শুরুই হয়নি। কথা জড়িয়ে আসে, হাঁটতে হাঁটতে পড়ে যায় । এমনই বয়স ছোট্ট আদিলের। বয়স মাত্র ২ বছর ২ মাস। অথচ এই কোমল বয়সেই তাকে লড়তে হচ্ছে মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে।
মাঝে মাঝেই তীব্র ব্যথায় কেঁদে ওঠে আদিল। পরিবারের কেউ তাকে কোলে নিলেও কান্না থামে না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার একটি কিডনিতে টিউমার ধরা পড়েছে এবং সেখান থেকেই ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে কিডনিটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে চিকিৎসা চলছে, তবে সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত কিডনিটি যদি কিছুটা সুস্থতার লক্ষণ দেখায়, তাহলে ছয় সপ্তাহ পর টিউমার অপসারণ করে কিডনি রাখার চেষ্টা করা হবে। আর যদি উন্নতি না হয়, তাহলে টিউমারসহ পুরো কিডনি অপসারণ ছাড়া উপায় থাকবে না। এই জটিল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা ব্যয়ে প্রয়োজন প্রায় চার লাখ টাকা।
কিন্তু এত বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা আদিলের পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। বাবা মনিরুল ইসলাম মানসিকভাবে অসুস্থ, মা লিজা খাতুন স্বল্পবুদ্ধিসম্পন্ন। সংসারে নিয়মিত আয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস নেই। যা সামান্য উপার্জন হয়, তা দিয়ে কেবল কোনোমতে দিন চলে। বসতভিটা ছাড়া তাদের আর কোনো সম্পদ নেই।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাজুবাঘা ইউনিয়নের নওটিকা গ্রামের এই পরিবারটি আজ সম্পূর্ণ দিশেহারা। প্রায় দুই মাস আগে হঠাৎ আদিলের পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠে। প্রথমে তাকে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভর্তি করা হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধরা পড়ে ভয়াবহ এই রোগ।
আদিলের দাদী মুল্লিকা বেগমের কণ্ঠে শুধু কান্না। স্বামী বহু আগেই মারা গেছেন। বড় ছেলে ‘মিশন’ কয়েক বছর আগে ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। পরিবারের ভরসা বলতে এখন শুধু অসুস্থ নাতি। তিনি বলেন, আমার নাতিটাকে বাঁচাতে চাই। কোথায় গেলে, কার কাছে গেলে সাহায্য পাব বুঝতে পারছি না। আপনারা দয়া করে এগিয়ে আসুন।
এই আর্তনাদ শুধু একটি পরিবারের নয়, এটি আমাদের মানবতার প্রতি এক কঠিন পরীক্ষা। সামান্য সহযোগিতা, একটু সহমর্মিতা, হয়তো ফিরিয়ে দিতে পারে একটি শিশুর হাসি।
সহযোগিতা ও যোগাযোগ:
বিকাশ ও নগদ: ০১৭৭৪৩৪৫১৫২
রকেট ও WhatsApp: ০১৭০৮৫০০৬৪৪
মানবিক হাত বাড়িয়ে দিন। আপনার ছোট্ট সহায়তাই হতে পারে আদিলের নতুন জীবনের সূচনা।
এসআর