এইমাত্র
  • পদত্যাগ করিনি, তবে শুনেছি আমি আর নেই: আহসান এইচ মনসুর
  • বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচারের’ প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
  • প্রতিবেদনের জেরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা
  • সখীপুরে ভিনদেশি ক্যাপসিকাম চাষে স্বপ্ন বুনছেন জয়নাল আবেদীন
  • ভোলায় মায়ের কোল থেকে ৩ মাসের শিশু চুরি
  • যেভাবে একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অনুমতি পেলো নোবিপ্রবির আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা
  • ডিজিটাল প্রতারণা ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা এমপি চাঁদের
  • ফটিকছড়ি-খাগড়াছড়ির সংযোগ সড়কে নিম্নমানের ইট-খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ
  • বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান
  • উলিপুরে ভোটকেন্দ্র সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ
  • আজ বুধবার, ১২ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    সখীপুরে ভিনদেশি ক্যাপসিকাম চাষে স্বপ্ন বুনছেন জয়নাল আবেদীন

    আমিনুল ইসলাম, সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
    আমিনুল ইসলাম, সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

    সখীপুরে ভিনদেশি ক্যাপসিকাম চাষে স্বপ্ন বুনছেন জয়নাল আবেদীন

    আমিনুল ইসলাম, সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

    ক্যাপসিকাম কাঁচা মরিচ গোত্রীয় একটি বৈচিত্র্যময়, মিষ্টি ও হালকা ঝাল স্বাদের বিশ্বনন্দিত জনপ্রিয় সবজি। পুষ্টির আধার সমৃদ্ধ ও স্বাস্থ্যকর এ ভিনদেশি সবজি রান্নার পাশাপাশি সুপার ফুড হিসেবে নুডুলস, সালাদ, ভাজি, স্যুপ, আভিজাত্য ও চাইনিজ খাবারে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়ে থাকে।


    ক্যাপসিকামে প্রচুর ভিটামিন এ, সি ও ফাইবার থাকায় নানা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বুদ্ধিসহ হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও পটাশিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে হৃদগের ঝুঁকি কমায়।


    দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আসা হরেক রঙের বৈচিত্র্যময় ক্যাপসিকাম সবজি বিশ্ব জুড়ে চাষ হলেও তাদের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় কৃষি উদ্যোক্তারা উচ্চ ফলনশীল এবং কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় এ সবজি চাষে সফলতার স্বপ্ন বুনছেন।


    ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায়, উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের ক্যাপসিকাম প্রদর্শনীর মাধ্যমে, টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রতিমাবংকী এলাকার সমতল জনপদের কৃষিতে প্রথমবারের মতো বৈচিত্র্য এনেছেন কৃষি উদ্যোক্তা জয়নাল আবেদীন। ইতিমধ্যে তিনি  ভিনদেশি বৈচিত্র্যময় সবুজ, লাল ও হলুদ রঙের সুপার ফুড সবজি ক্যাপসিকাম চাষে সফলতার স্বপ্ন বুনছেন।


    সরেজমিনে দেখা গেছে, তার বাড়ির পাশে ২০ শতাংশ জমিতে মালচিং ও জৈববালাই নাশক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেছেন উচ্চফলনশীল বিভিন্ন জাতের ক্যাপসিকাম। আর ক্ষেতের  চারদিকে জাল দিয়ে ঘিরে তার মাঝখানে সারি সারি বেডে নিদিষ্ট দুরত্বে এ ক্যাপসিকাম চাষ করা হয়েছে। ক্ষেতে চোখ মেললেই সবুজ আর সবুজ এবং বেডে বেডে এ সবুজের সমারহে ভরে উঠেছে পুরো ক্যাপসিকাম সবজি ক্ষেত।


    কাঁচা মরিচ জাতীয়  গাছের সবুজ পাতার থোকায় থোকায় দুলছে  মিষ্টি ক্যাপসিকাম। সবুজের সমারহে ভরে উঠা এই ক্যাপসিকাম খেত এখন শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, বরং  কৃষি উদ্যোক্তার স্বপ্ন পুরণের পাশাপাশি গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতির সম্ভবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।


    সাড়া জাগানো নতুন ফসল দেখার জন্য স্থানীয়রা ভিড় করছেন। তার সফলতা দেখে অনেকে এর চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।


    উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানাযায়, উপযোগী মাটি আর অনুকূল আবহাওয়া রোপনের ৬০ দিনের মধ্যে গাছে গাছে প্রচুর ফল ধরেছে। টুকটাক ফলন যোগ্য এককটি পরিপুষ্ঠ ফলের ওজন হয় ১৫০ থেকে ১৮০ গ্রামের মতো। যা ৬ থেকে ৭ টি ফলে ১ কেজি ওজন হয়।

    কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন, অধিক পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয়ে আলুসহ নানা গতানুগতিক ফসল চাষে তেমন মুনাফা ঘরে উঠছেনা। যা ফসলের বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি কম খরচে ভাল মুনাফার আশায় উচ্চ মূল্যের চমকপদ সবজি ক্যাপসিকাম চাষে মনোনিবেশ করি।


    স্থানীয় বাজারে  প্রতি কেজি ক্যাপসিকাম বিক্রি করা হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে।


    ৪ মাস জীবনকাল এ সবজির প্রতিটি গাছে ১ কেজি করে ফলনের আশা করা হচ্ছে। যা ওই পরিমান গাছে ১ কেজি করে ফলনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি করে ২ লাখ টাকার অধিক আয় ঘরে তোলা যাবে। যা এ পরিমান জমিতে অন্য ফসলে এতো আয় ঘরে তোলা দুঃস্বপ্ন।


    আগামী বছর আরো বেশি জমিতে ক্যাপসিকাম চাষে পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবিও জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, স্থানীয় বেকার যুবকরা ক্যাপসিকাম চাষে নানা পরামর্শের জন্য আমার কাছে আসতেছেন। তাদেরকে এর চাষে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


    উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইসমত আরা খাতুন বলেন, বিশ্বজুড়ে এর চাষবাস হলেও এখন বাংলাদেশের ভোক্তার কাছে এ সবজির দিন দিন জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ইতিমধ্যে উপজেলার প্রতিমা বংকী গ্রামের কৃষি উদ্যেক্তা জয়নাল আবেদীন মালচিং ও জৈব বালাইনাশক পদ্ধতিতে বিষমুক্ত ক্যাপসিকাম সবজি চাষ করে সফলতার স্বপ্ন বুনছেন। ভাল ফলনে রোগবালাই প্রতিরোধসহ নানা বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে গাছে ফলন দেওয়া শুরু হয়েছে। এ সবজি ফল উত্তোলন করে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ২০০টাকা দরে বিক্রি করে ভাল আয়ের মুখ দেখছেন।

    পুরো মৌসুম জুড়ে ভালো ফলন ও বাজার দর পেয়ে তিনি ব্যাপক লাভবান হবেন এমনটাই আশা করা হচ্ছে। উচ্চ মূল্যের এ সবজির ব্যাপকতা ছড়িয়ে দিতে মাঠ পর্যায়ে বেকার যুবক ও কৃষককে উদ্ধুদ্ধ করণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিয়ন্তা বর্মণ বলেন, ক্যাপসিকাম সবজি জমির পাশাপাশি পারিবারিক পুষ্টি ও সবজির চাহিদা মেটাতে বস্তা-টব, বাড়ির ছাদের এর চাষ করা যায়। হালকা ঝাল-মিষ্টি স্বাদের ক্যাপসিকাম সবজি হিসেবে নয়, সালাদ, ভাজি, স্যুপ এবং আরো অনেক রান্নায় এটি ব্যবহার করা হয়। এ সকল কারণের জন্য ক্যাপসিকাম একটি সাধারণ সবজির চেয়ে অনেক স্বাস্থ্যকর, বৈচিত্র্যময়, এবং চাষাবাদের জন্য সুবিধাজনক একটি সবজি, যা সত্যিই চমকপ্রদ।

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত

    Loading…