ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আপন দুই ব্যবসায়ী সহোদরের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির অপবাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীরা হলেন ওই এলাকার মৃত এনায়েত মোল্যার ছেলে হাসিব হোসেন রুহিন ও আরিফ হোসেন প্রিন্স।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত শাহজাহান মল্লিকের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই ইছহাক মল্লিকের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। যা ইতিপূর্বে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় মীমাংসা হয়। সম্প্রতি ইছহাক মল্লিক তার নিজস্ব সম্পত্তিতে একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেন। তবে ভবনের পাশে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকা সত্ত্বেও তিনি মৃত শাহজাহান মল্লিকের জমির চলাচলের রাস্তা দখল করে একটি সেফটি ট্যাংকি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এতে শাহজাহান মল্লিকের দুই জামাতা হাসিব হোসেন রুহিন ও আরিফ হোসেন প্রিন্স বাঁধা প্রদান করেন। জমির সীমানা ও রাস্তা নিয়ে তর্কের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ইছহাক মল্লিক ওই দুই সহোদরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির বানোয়াট অভিযোগ তোলেন। পরবর্তীতে ইছহাক মল্লিকের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন পেজে ছড়িয়ে পড়ে, যা এলাকায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।
জমি সংক্রান্ত এই বিরোধ নিয়ে উভয় পক্ষ আলফাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে অনুসন্ধানের সময় খোদ অভিযোগকারী ইছহাক মল্লিকই পুলিশের সামনে চাঁদাবাজির বিষয়টি অস্বীকার করেন। এই প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'জমি নিয়ে বিরোধের কারণে তারা আমাকে সেফটি ট্যাংকি নির্মাণে বাধা দিয়েছিল। তবে চাঁদা দাবির বিষয়টি সঠিক নয়।' এসংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড এই প্রতিবেদকের নিকট সংরক্ষণে আছে।
ভুক্তভোগী হাসিব হোসেন রুহিন ও আরিফ হোসেন প্রিন্স বলেন, 'ইছহাক মল্লিক আমার শ্বশুরের রাস্তা দখল করে কাজ করতে চেয়েছিলেন। আমরা শুধু তাতে বাঁধা দিয়েছি। কিন্তু তিনি প্রতিহিংসাবশত আমাদের সামাজিকভাবে হেয় করতে চাঁদাবাজির মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়েছেন। পুলিশি তদন্তে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।'
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নেওয়াজ হোসেন জানান, 'উভয় পক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখেছি। বর্তমানে উভয় পক্ষ নিজেদের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করে নিয়েছে। তবে চাঁদাবাজির মতো কোনো ঘটনার সত্যতা সেখানে পাওয়া যায়নি।'
স্থানীয়রা বলছেন, ব্যক্তিগত ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে 'চাঁদাবাজি' হিসেবে রঙ চড়িয়ে প্রচার করা একটি সুস্থ সমাজের অন্তরায়। তারা এমন অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
ইখা