চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শুষ্ক মৌসুম এলেই তীব্র আকার ধারণ করে বিশুদ্ধ পানির সংকট। বর্ষাকালে কোনোভাবে নলকূপে পানি পাওয়া গেলেও শীত ও গ্রীষ্মের শুরুতেই অধিকাংশ নলকূপে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার প্রয়োজন মেটাতে অনেকেই বাধ্য হয়ে কৃষি সেচ স্কিমের পাইপ, খাল কিংবা দূরের বাড়ি থেকে পানি সংগ্রহ করছেন।
বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) দুপুরে ছদাহা-কেঁওচিয়া স্কুল সংলগ্ন এলাকায় দেখা গেছে, একটি পুরোনো সেচ লাইনের পাইপ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কৃষি সেচের ওই স্কিমের পাইপ থেকে পানি সংগ্রহ করছেন এক নারী। প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে তিনি ওই পাইপের পানি সংগ্রহ করছেন।
ওই নারীর ভাষ্য, আশপাশের অনেক নলকূপেই এখন পানি ওঠে না। যেগুলোতে সামান্য পানি ওঠে, সেগুলো থেকেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না। ফলে সেচ স্কিমের পানিই এখন তার মতো অনেকের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, শুষ্ক মৌসুম এলেই আমাদের পানির কষ্ট শুরু হয়। নলকূপে পানি উঠে না। তখন সেচ লাইনের পাইপ থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। এটা খুব কষ্টের।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় কয়েকটি নলকূপ থাকলেও অনেকগুলোই দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে। কিছু নলকূপে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পানি ওঠে না। ফলে যে কয়েকটি নলকূপ সচল আছে, সেগুলোর ওপরই চাপ পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় বেশ কয়েকটা নলকূপ আছে, কিন্তু অর্ধেকের বেশি নষ্ট। আবার কিছু নলকূপে পানি ওঠে না। ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে অন্য জায়গা থেকে পানি আনতে যায়।
আরেক বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, প্রতিদিন সকালে পানি আনতে যেতে হয়। অনেক সময় এক বালতি পানির জন্য আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
এলাকার অনেক পরিবারকে দৈনন্দিন ব্যবহারের পানি সংগ্রহের জন্য অন্য জায়গায় যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদেরই এই কাজ বেশি করতে হয়।
স্থানীয় এক নারী বলেন, আমাদের বাড়ির নলকূপে পানি ওঠে না। তাই প্রতিদিন স্কুলের পাশের সেচ স্কিমের পাইপ থেকে পানি আনতে হয়। রান্না, ধোয়া-মোছা—সব কাজেই এই পানি ব্যবহার করি।
স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এলাকায় পানির স্তর ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে অগভীর নলকূপগুলোতে পানি উঠছে না।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, কয়েক বছর আগেও এমন সমস্যা ছিল না। তখন শুষ্ক মৌসুমেও অনেক নলকূপে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি বদলে গেছে।
একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, আগে এই এলাকায় পানির এত কষ্ট ছিল না। এখন শুষ্ক মৌসুম এলেই নলকূপ শুকিয়ে যায়।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত নতুন গভীর নলকূপ স্থাপন এবং পুরোনো নলকূপগুলো মেরামত করা হলে সমস্যার অনেকটাই সমাধান হতে পারে। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, বিভিন্ন এলাকায় পানির সংকটের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শুষ্ক মৌসুমে অনেক জায়গায় নলকূপে পানি কমে যায়।
তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে, সেখানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে নতুন গভীর নলকূপ স্থাপন বা বিকল্প নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এসআর