চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় বকেয়া বেতন ও বিল সংক্রান্ত জটিলতাকে কেন্দ্র করে করোনেশন মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার মধ্যে হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এতে কিছু সময়ের জন্য পুরো কার্যালয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, করোনেশন মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন একটি পুরোনো বিল উত্তোলনের উদ্দেশ্যে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে যান। সেখানে বিলের নথিপত্রে কিছু আইনি জটিলতার বিষয় তুলে ধরেন উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এ কে এম নজরুল ইসলাম। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। খবর পেয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, “বেতন সংক্রান্ত বিল ফরম নিয়ে অফিসে গিয়েছিলাম। কিন্তু বিলটি নিষ্পত্তি না করে বিভিন্ন অজুহাতে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছিল। এতে আমি বিরক্ত হয়ে বিল ফরম নিয়ে চলে আসতে চাইলে আমাকে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।”
অন্যদিকে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এ কে এম নজরুল ইসলাম দাবি করেন, “জসিম উদ্দিন দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। ওই সময়ের কিছু বিল নিয়ে তিনি এসেছিলেন, যার সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল না। নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় আমরা তা গ্রহণ করতে পারিনি। পরে তিনি অফিস থেকে কিছু নথি নিয়ে জোরপূর্বক চলে যেতে চাইলে আমরা বাধা দেই। এতেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. সেলিম রেজা বলেন, “খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক হিসাবরক্ষণ অফিসে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মো. ইব্রাহিম জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলে দুই পক্ষই নিজেদের ভুল উপলব্ধি করে একে অপরের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এনআই