কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বর্ণিল আয়োজনে ও দর্শনার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয়েছে ৩০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক দোল উৎসব ও মেলা।
বুধবার (৪ মার্চ) রাতে উপজেলার নাওডাঙ্গা জমিদারবাড়ি প্রাঙ্গণে হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গণ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় তিন শতাব্দী ধরে নাওডাঙ্গা জমিদারবাড়ি প্রাঙ্গণে এই ‘দোল মেলা’ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বুধবার সন্ধ্যায় বিভিন্ন গ্রাম থেকে ৪৬টি শ্রীকৃষ্ণের দোল মূর্তি (সিংহাসন) মেলা প্রাঙ্গণে আনা হয়। ঢাক-ঢোলের বাজনায় পৌরাণিক নৃত্যের তালে তালে ভক্তরা কাঁধে করে এই সিংহাসন নিয়ে মেলা প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করেন। গভীর রাত পর্যন্ত ভক্তরা পরম ভক্তিভরে এই উৎসব উপভোগ করেন।
মেলা উদযাপন কমিটি জানায়, ১৩০৪ বঙ্গাব্দে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর জমিদারের বংশধররা ভারতের কোচবিহারে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলেও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবটি টিকিয়ে রেখেছেন।
উৎসবের ব্যাপ্তি: পূজারি বীরেন্দ্র নাথ বর্মণ জানান, গত সোমবার (২ মার্চ) রাতে ‘ন্যাড়া পোড়ানো’র মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এই উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। মঙ্গলবার পূজা, হোম যজ্ঞ ও প্রসাদ বিতরণের পর বুধবার মূল দোল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে ‘বাসি মেলা’র মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। নাওডাঙ্গা ছাড়াও ফুলবাড়ী সদর এবং ভাঙামোড় ইউনিয়নের রাবাইটারী এলাকায় ছোট ও মাঝারি পরিসরে দোল উৎসব পালিত হয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী এই মেলায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন।
চট্টগ্রাম থেকে আসা শিক্ষিকা বৃষ্টি চৌধুরী বলেন, “অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল উত্তরের সীমান্তঘেঁষা এই ঐতিহাসিক মেলা দেখার। ২০২৬ সালে এসে সেই ইচ্ছা পূরণ হলো। এখানকার জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন দেখে আমি অভিভূত।”
রাজারহাট থেকে আসা অভিজিৎ চন্দ্র জানান, শৈশব থেকেই তিনি এই মেলায় আসেন এবং এখানকার পরিবেশ তাঁকে মানসিক প্রশান্তি দেয়।
মেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুশীল কুমার রায় ও সাধারণ সম্পাদক রতন চন্দ্র রায় জানান, প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে মেলা সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ফুলবাড়ী শাখার সভাপতি কার্তিক চন্দ্র সরকার জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে নাওডাঙ্গা জমিদারবাড়িসহ উপজেলার চারটি স্থানে দোল উৎসব পালিত হয়েছে।
ফুলবাড়ী থানার এএসআই আব্দুল মালেক জানান, পুলিশের পাশাপাশি গ্রাম পুলিশ ও মেলা কমিটির স্বেচ্ছাসেবীরা সক্রিয় থাকায় হাজারো দর্শনার্থী কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই উৎসব উপভোগ করতে পেরেছেন।
এনআই