পাবনার ঈশ্বরদীতে মাদক কারবার, দেহব্যবসা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ‘বস্তির রানী’ হিসেবে পরিচিত আলেয়া বেগম নামে এক নারীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করেছে এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যার পর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পৌর শহরের পূর্ব নূরমহল্লা এলাকায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় ভুক্তভোগীরা আলেয়া বেগমের নানা জুলুম ও অত্যাচারের বর্ণনা তুলে ধরেন।
অভিযোগ রয়েছে, আলেয়া বেগম নিজেকে স্থানীয় মহিলা দলের নেত্রী পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। এই প্রভাবে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় মাদক ও দেহব্যবসার সিন্ডিকেট চালিয়ে আসছেন। শুধু তাই নয়, নতুন বাড়ি কেনা-বেচা কিংবা তুচ্ছ ঘটনায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে প্রাণনাশের হুমকিসহ নানাভাবে হয়রানি করা হয় বলে জানান স্থানীয়রা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলেয়া বেগমের চাঁদা নেওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় রিকশাচালক জাহাঙ্গীর একটি বাড়ি ক্রয় করায় তাঁর কাছ থেকে জোরপূর্বক ২০ হাজার টাকা চাঁদা নিচ্ছেন আলেয়া। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নিজের অপকর্ম আড়াল করতে তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “আমার মেয়ে ও জামাতা বাড়িটি ক্রয় করেছিল। হঠাৎ আলেয়া তাঁর দলবল নিয়ে এসে বাড়ির দলিল ছিনিয়ে নেন এবং সেটি ফেরত দিতে ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। বাড়ি দখলের হুমকি দেওয়ায় আমি বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছি।”
আরেক ভুক্তভোগী রুপালি খাতুন বলেন, “এক মাস আগে প্রতিবেশীর সঙ্গে সামান্য ঝগড়ার সূত্র ধরে আলেয়া এসে জোরপূর্বক ১৫ হাজার টাকা জরিমানা দাবি করেন। টাকা না দিলে এলাকা ছাড়া করার হুমকিও দেন তিনি। আমরা এই অত্যাচার থেকে রেহাই চাই।”
স্থানীয় নিপা খাতুন ও রেশমাসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মাদক ও দেহব্যবসার প্রতিবাদ করলে আলেয়া তাঁর বাহিনী নিয়ে বাড়িঘরে হামলা চালান। তাঁরা অবিলম্বে এই কথিত নেত্রীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে আলেয়া বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। এমনকি মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো সাড়া মেলেনি।
ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আফজাল হোসেন বলেন, “বিক্ষোভের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকের কারবার বা চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
এনআই