বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিগগিরই দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলটির চেয়ারম্যান পদ শূন্য হয়। ১৯৮৪ সালের ১০ মে থেকে চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
দলীয় সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকেই বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারার (৩) উপধারায় বলা হয়েছে- যেকোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে বহাল থাকবেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলীয় শূন্যতা পূরণ এবং সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসছে। সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষে আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন বলে বিএনপির ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে। তবে সেখানে তার পড়াশোনা সম্পন্ন করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তাদের পরিবারের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের পরিবারকেও বন্দি করা হয়েছিল। সে সময় তাদের দুই ছেলে-তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমানও বন্দিদশায় ছিলেন।
সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তারেক রহমান তার মায়ের সঙ্গে রাজপথের আন্দোলনে যুক্ত হন। ওই সময় ১৯৮৮ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির গাবতলী উপজেলা ইউনিটের সাধারণ সদস্য হিসেবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
তবে দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের দলীয় রাজনীতিতে কার্যকর ভূমিকা শুরু হয় ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়। ওই নির্বাচনে খালেদা জিয়া যে পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, সেগুলোর সাংগঠনিক সমন্বয় ও দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
১৯৯৬ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময়েও তিনি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। তবে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতিতে তারেক রহমানের প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে।
২০০২ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। এরপর ২০০৭ সালের এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারেক রহমান গ্রেপ্তার হন। ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান।
২০০৯ সালে দলের জাতীয় কাউন্সিলে তাকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে দলীয় সিদ্ধান্তে যুক্তরাজ্য থেকেই তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে অবস্থানের পর তিনি গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
বর্তমানে বিএনপির সর্বোচ্চ নেতৃত্বে তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে দলীয় অঙ্গনে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক গতি সৃষ্টির প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসকে/আরআই