বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একমাত্র মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান রাজনীতিতে আসছেন- এমন আলোচনা সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বাবার সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে জাইমা রহমানের উপস্থিতি এই আলোচনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
গত বছর বাবার প্রতিনিধি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট’-এ অংশ নেন জাইমা রহমান। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। একই বছর প্রবাসী ভোট কার্যক্রম নিয়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সভায় লন্ডন থেকে যুক্ত হন তিনি। সর্বশেষ দাদি খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাতে আসা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকেও বাবার পাশে ছিলেন জাইমা রহমান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব উপস্থিতি নিছক পারিবারিক নয়; বরং বিএনপির রাজনীতিতে জিয়া পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মকে ধীরে ধীরে পরিচিত করিয়ে দেওয়ার একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক ফোরামে প্রতিনিধিত্ব, দলীয় ভার্চুয়াল সভায় অংশগ্রহণ এবং শীর্ষ কূটনৈতিকদের সঙ্গে বৈঠক, সব মিলিয়ে জাইমা রহমানের রাজনৈতিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
জাইমা রহমান দীর্ঘদিন রাজনীতির দৃশ্যপটের বাইরে ছিলেন। কোনো আন্দোলন, বক্তৃতা কিংবা দলীয় পদ-পদবিতে তার সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ায় তাকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর দলীয় অনুরোধে রাজনীতিতে আসেন খালেদা জিয়া। পরবর্তীতে তারেক রহমানও ধাপে ধাপে দলীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সেই পারিবারিক ধারাবাহিকতায় জাইমা রহমানের রাজনীতিতে আসা অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত নয় বলেও মনে করা হচ্ছে।
জাইমা রহমানের জন্ম ২৬ অক্টোবর ১৯৯৫। তিনি ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে পড়াশোনা শুরু করেন। ২০০৮ সালে পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে যান। সেখানে কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২০১৯ সালে লিংকনস ইন থেকে ‘বার অ্যাট ল’ সনদ লাভ করেন।
গত ২৫ ডিসেম্বর বাবার সঙ্গে দেশে ফেরার দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জাইমা রহমান দাদি খালেদা জিয়ার পাশে থাকার কথা জানান। একই সঙ্গে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশ ও বাবাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় বাবার পাশেই দেখা গেছে জাইমা রহমানকে। দেশি-বিদেশি অতিথিদের সমবেদনা গ্রহণের সময়ও তিনি সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন।
সব মিলিয়ে রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত হওয়ার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে জাইমা রহমান গুরুত্বপূর্ণ এক নাম হয়ে উঠতে পারেন।
এসকে/আরআই