নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র জোহরান মামদানি তার প্রথম দিনে শহরকে ‘পুনরায় গড়ে তোলার’ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, এই শহরে নতুন যুগ শুরু হচ্ছে এবং তার প্রশাসন সাহসী ও দৃঢ়ভাবে কাজ করবে।
৩৪ বছর বয়সি মামদানি শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র, দক্ষিণ এশিয়ার বংশোদ্ভূত এবং আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া প্রথম মেয়র। এছাড়া তিনি কুরআনের শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করা প্রথম মেয়র।
জোহরান মামদানি বলেন, ‘আজ আমরা সাহসিকতার সঙ্গে শাসন শুরু করছি। হয়তো সবসময় সফল হবো না, তবে চেষ্টা করার সাহস কখনো হারাব না।’
তিনি বলেন, ‘আমি গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক নীতি মানি এবং সেই নীতিতেই শাসন করব। আমাকে কখনো চরমপন্থি বলা হলেও নীতি ত্যাগ করব না।’
শপথ গ্রহণের পর মামদানি তার প্রশাসনের জন্য প্রাক্তন মেয়র এরিক অ্যাডামসের ২০২৪-এর ২৬ সেপ্টেম্বরের পর থেকে সব নির্বাহী আদেশ বাতিল করেন। তবে পরে তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ আদেশ পুনঃপ্রকাশ করার পরিকল্পনা করছেন।
মামদানি বলেন, ‘কাজ কেবল শুরু হয়েছে। আমরা সবার জন্য কাজ করব, শুধু ধনী বা কিছু সংখ্যক মানুষের জন্য নয়।’
নতুন মেয়র এখন শহরের বাসভবন, স্বাস্থ্য, ভাড়া এবং পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য কাজ শুরু করবেন। তার পরিকল্পনায় রয়েছে বিনামূল্যে চাইল্ডকেয়ার, বিনামূল্যে বাস, প্রায় ১ মিলিয়ন পরিবারের জন্য ভাড়া স্থগিত এবং শহরের পরিচালিত নতুন গ্রোসারি স্টোর।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ১১১তম মেয়র হিসাবে বুধবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪ মিনিটে, ম্যানহাটনের সিটি হলের নিচে অবস্থিত ঐতিহাসিক ও পরিত্যক্ত একটি সাবওয়ে স্টেশনে পবিত্র কুরআন ছুঁয়ে শপথগ্রহণ করেন জোহরান মামদানি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী রামা দুয়াজি এবং রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেতিসিয়া জেমস, যাকে মামদানি তার ‘রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা’ হিসেবে মনে করেন।
প্রসঙ্গত, মামদানিকে শপথ গ্রহণ করিয়েছেন বার্নি স্যান্ডার্স এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডেমোক্র্যাটের আলেক্সান্দ্রিয়া ওক্যাসিও-কোর্টেজ।
এমআর-২