এইমাত্র
  • সবুজ পাতায় স্বপ্নের ফসল, রায়পুরে পান চাষে সাফল্যের জোয়ার
  • দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে, নেমেছে ৮ ডিগ্রিতে
  • রাজনীতিতে আসছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান?
  • সবজি-মুরগির দামে স্বস্তি, চড়া মাছের বাজার
  • সম্পদের হিসেবে জোনায়েদ সাকির চেয়ে এগিয়ে তার স্ত্রী
  • বাকৃবি শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়‌দের হামলা, আহত ৫
  • পঞ্চগড়ে কোটি টাকার বীজ আলু পচে নষ্ট, দায় কার?
  • বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাচ্ছেন তারেক রহমান
  • নতুন বছরে ভারতগামী যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ফি
  • জার্মানিতে নববর্ষ উদযাপনে বহু হতাহত, গ্রেফতার ৪০০
  • আজ শুক্রবার, ১৯ পৌষ, ১৪৩২ | ২ জানুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    ঝিনাইদহ জেল সুপারের বিরুদ্ধে ‘নিলাম নাটক’ সাজিয়ে মোটরসাইকেল বিক্রির অভিযোগ

    এস.এম রবি, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি প্রকাশ: ২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
    এস.এম রবি, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি প্রকাশ: ২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

    ঝিনাইদহ জেল সুপারের বিরুদ্ধে ‘নিলাম নাটক’ সাজিয়ে মোটরসাইকেল বিক্রির অভিযোগ

    এস.এম রবি, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি প্রকাশ: ২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

    ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের সুপার মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানের বিরুদ্ধে নিলামের নামে নাটক সাজিয়ে সরকারি মোটরসাইকেল অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। নিলামে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের তোয়াক্কা না করে নিয়মবহির্ভূতভাবে এক ব্যবসায়ীর কাছে মোটরসাইকেলটি বিক্রি করার ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ ডিসেম্বর ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের ব্যবহৃত একটি পুরাতন মোটরসাইকেল বিক্রির নিলাম বিজ্ঞপ্তি কারা ফটকে প্রকাশ করা হয়। পরদিন ৩০ ডিসেম্বর স্থানীয় বাসিন্দা তুহিন হোসেন, মোঃ রইচ উদ্দিন ও সোহেল রানা নির্ধারিত ২৫০০ টাকা করে জামানত জমা দিয়ে নিলামে অংশ নেন। নিলাম চলাকালে জেল সুপার, জেলার, কেরানী ও হিসাব সহকারীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, নিলামের আগে নিয়ম অনুযায়ী সরকারি নির্ধারিত মূল্য জানানোর কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ তা গোপন রাখে। এক পর্যায়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে তুহিন হোসেন ৭৫০০ টাকা দাম হাঁকালেও জেল সুপার সেই দামে বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানান এবং পুনরায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিলাম হবে বলে অংশগ্রহণকারীদের বিদায় করে দেন।

    নিলাম স্থগিত করার মাত্র দুই ঘণ্টা পর ‘সোনা মিয়া’ নামে এক ব্যক্তি ২০ হাজার টাকায় মোটরসাইকেলটি কিনে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন। সোনা মিয়া পূর্বের নিলামে অংশগ্রহণ না করলেও জেল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগসাজশে এটি কিনে নেন। স্থানীয়রা মোটরসাইকেলসহ তাকে আটকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ২০ হাজার টাকায় কেনার কথা স্বীকার করেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও আকারে ছড়িয়ে পড়ে।

    বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর জেল সুপার তড়িঘড়ি করে সোনা মিয়ার কাছ থেকে মোটরসাইকেলটি ফিরিয়ে আনেন। এই বিষয়ে সাংবাদিকরা জেল সুপার মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন জমা রেখে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেন। তিনি সরাসরি মোটরসাইকেল বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন মোটরসাইকেলটি মেরামতের জন্য বাইরে পাঠানো হচ্ছিল। তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানান।

    কারা হিসাব সহকারী মীর আলামিন প্রথমে বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করলেও পরবর্তীতে সাংবাদিকদের এড়িয়ে গিয়ে জেল সুপারের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

    এই অনিয়মের বিষয়ে মন্তব্য নিতে খুলনা বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মনির আহমেদ এবং কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোঃ মোতাহের হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।

    সরকারি সম্পদ নিয়ে এমন ‘লুকোচুরি’ এবং নিয়ম বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের ঘটনায় ঝিনাইদহ শহরজুড়ে ক্ষোভ ও সমালোচনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করেছেন।

    এসআর

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…