ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন। তবে এ বিষয়ে ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ কয়েকটি এলাকায় হামলার খবর পাওয়া যায়। ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মুখে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। রাজধানীর পাশাপাশি মিরান্দা, আরাগুয়া ও লা গাইরা প্রদেশেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা কারাকাসে চালানো এ হামলার দায় স্বীকার করেন। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ভেনেজুয়েলা সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, এ ধরনের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডকে তারা ‘ঔপনিবেশিক যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছে, যা বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি।
সাম্প্রতিক সময়ে মাদক পাচার দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট মাদুরো। তবে গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে কথিত সিআইএ-নেতৃত্বাধীন হামলার অভিযোগ নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে কিছুটা সংযত ভাষা ব্যবহার করলেও মাদুরো আবারও অভিযোগ করেছেন, ভেনেজুয়েলার সরকার উৎখাত এবং দেশটির তেলসম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলা চাইলে শেভরনের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগের সুযোগ দিতে প্রস্তুত।
ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হামলা চালিয়েছে কি না— এ প্রশ্নে মাদুরো বলেন, বিষয়টি নিয়ে পরে বিস্তারিত আলোচনা করা যেতে পারে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫টি সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ১১৫ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছে।
আরডি