বিলুপ্তির পথে এক সময়ের চিরচেনা গ্রামবাংলার জনপ্রিয় 'পলো' দিয়ে মাছ ধরার উৎসব। তলাবিহীন কলসির আদলে বাঁশ ও বেতের সংমিশ্রণে ছোট ছোট ছিদ্র রেখে শৈল্পিকভাবে মাছ ধরার এই যন্ত্রটি তৈরি করা হয়। আবহমান বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের মতো পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বড়াল নদীতে অন্যতম উৎসব পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভাঙ্গুড়া উপজেলার বড়াল নদীতে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে বাউত উৎসবে মাছ শিকার। লোকজ রীতিতে হৈহুলোরে নদীর জলে মনের আনন্দে দিনভর চলে মাছ শিকার।
এ দিন মাছ ধরার নানা উপকরণ নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসা নানা বয়সের কয়েক'শ মানুষ অংশ নেয়। একসঙ্গে নদীতে নেমে লোকজ রীতিতে মনের আনন্দে চলে মাছ শিকার। শৌখিন মাছ শিকারিরা একত্রিত হয়ে সারিবদ্ধভাবে পলো, ঠেলাজাল, বেড়াজাল দিয়ে মাছ শিকার করেন। এসময় দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছ শোল, বোয়াল, গজার, রুই, কাতলা, চিতল মাছ ধরা পড়ে। বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে নদী পাড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌষের তীব্র শীত উপেক্ষা করে বড়াল নদীর হাঁটু পানিতে পলো দিয়ে মাছ ধরছেন শত শত মৎস্য শিকারী। অধিকাংশ পলোর মধ্যে বোয়াল মাছ ধরা পড়ছে। তরুণ থেকে শুরু বয়স্করাও এক সাথে মাছ ধরছেন পলো দিয়ে। সৌখিন এমন মানুষের মাছ ধরা দেখছেন নদী পাড়ের লোকজন। অনেকে মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন, ভিডিও করে রাখছেন। বিশেষ করে, স্থানীয় পলোতে বড় বোয়াল মাছ ধরা পড়া দেখে আনন্দে মেতে ওঠে স্থানীয় শিশুরা।
বড়াল নদীতে মাছ ধরতে আসা বাউত উৎসবের মৎস্য শিকারি পাবনার ফরিদপুর উপজেলার জন্তিহার গ্রামের ইয়াকুব সরকার বলেন, শখের বসে পলো দিয়ে মাছ ধরেন তারা। বড়াল নদীতে মাছ শিকারে আসলে কেউ খালি হাতে ফেরেন না। চলনবিলের বিভিন্ন নদীর পানি নামার পর থেকে দল বেঁধে মাছ ধরেন। আজ এখানে-কাল ওখানে। পলোতে বোয়াল, রুই, শোল, আইড়সহ বিভিন্ন মাছ ধরা পাওয়া যায়। গত বছরের তুলনায় এবার মাছও বেশী পাওয়া গেছে।
এফএস