নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে৷ জেলায় মোট ৪০ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যাচাই-বাছাই শেষে ফলাফল জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রুপগঞ্জ) আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ৮ প্রার্থী। তাদের মধ্যে ৬ জনের মনোনয়ন আবেদন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন, মোহাম্মদ দুলাল (স্বতন্ত্র); তার ১ পার্সেন্ট ভোটারের স্বাক্ষরের সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং মনিরুজ্জামান চন্দন (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি); তার হলফনামায় স্বাক্ষর নেই।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ১০ প্রার্থী। তাদের মধ্যে ৩ জনের মনোনয়ন আবেদন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ৩ জনের মনোনয়ন আবেদন অবৈধ এবং বাকী তিনজনের মনোনয়ন আবেদন স্থগিত করা হয়েছে।
বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন, আবু হানিফ হৃদয় (বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি); তিনি ঋণখেলাপী, মিনহাজুর রহমান (স্বতন্ত্র) এবং আব্দুল আউয়াল (স্বতন্ত্র)। তাদের ১ পার্সেন্ট ভোটারের স্বাক্ষরের সত্যতা পাওয়া যায়নি ও মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ (ইসলামী আন্দোলন); তার হলফনামা সঠিক নয়।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে ১১ প্রার্থী। তাদের মধ্যে ১০ জনের মনোনয়ন আবেদন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একজনের মনোনয়ন আবেদন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি হলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম (স্বতন্ত্র); তার হলফনামা অসম্পূর্ণ।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয় ১৫ প্রার্থী। তাদের মধ্যে ৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ৫ জনের মনোনয়ন আবেদন অবৈধ এবং স্থগিত হয়েছে একজনের।
বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন, মো. আরিফ ভূঁইয়া (গণঅধিকার পরিষদ) অসম্পূর্ণ হলফনামা, ছালাউদ্দিন খোকা (জাতীয় পার্টি) গ্যাস বিল বকেয়া, ফাতেমা মনির তার ১ পার্সেন্ট ভোটারের স্বাক্ষর নেই, ইকবাল হোসেন (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি) ও মো. সেলিম আহমেদ (বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি); তাদের হলফনামা অসম্পূর্ণ।
স্থগিত হয়েছে সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর মনোনয়পত্র৷ তার গ্যাস বিল বকেয়া থাকায় তিনি যাচাই-বাছাইয়ে ছিটকে পড়েন৷
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে ১২ প্রার্থী। তাদের মধ্যে ৮ জনের মনোনয়ন আবেদন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ৪ জনের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন- মাকসুদ হোসেন (স্বতন্ত্র); তার হোল্ডিং ট্যাক্স বাকী, নাহিদ হোসেন (গণঅধিকার পরিষদ) অসম্পূর্ণ হলফনামা। সেই সাথে সাখাওয়াত হোসেন খান এবং আবু জাফর আহমেদ বাবুলের দলীয় মনোনয়ন না থাকায় বাতিল করা হয়েছে। তবে তারা দুইজনই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিবেন বলে জানিয়েছেন।