কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কালিগঞ্জ ইউনিয়নের শিশু নাজমুল (১০) দুরারোগ্য ব্যাধি (Motor Neuron Disease (MND) / ALS) তে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন কাটাচ্ছে। নার্ভ শুকিয়ে যাওয়া ও শরীরের মাংস ক্ষয় হওয়ার কারণে ধীরে ধীরে তার কোমর থেকে পা পর্যন্ত অসাড় হয়ে যাচ্ছে। আজ জীবন-মৃত্যুর কঠিন লড়াইয়ে আছে। ধীরে ধীরে তার কোমর থেকে পা অবশ হয়ে আসছে। যে শিশুটি যে সময়ে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলায় মেতে থাকার কথা , আজ সে সময়ে সে আর নিজে হাঁটতে পারে না—মায়ের কোলে ভর করেই তার দিন কাটছে।
নাজমুলের স্বপ্ন ছিল খুব সাধারণ কিন্তু গভীর বিশ্বাসে ভরা। সে সুস্থ হয়ে কোরআনে হাফেজ হতে চায়। আল্লাহর কালাম মুখস্থ করে একজন ভালো মানুষ হয়ে সমাজের কাজে আসতে চায় সে। কিন্তু ভয়াবহ এই অসুখ তার সেই স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে বসেছে। শিশু নাজমুল সারাদিন শুধু আল্লাহকে ডাকে আর বলে, হে আল্লাহ আমাকে নামাজ আদায় করার জন্য মসজিদে যাবার জন্য হলে পা দুটো ভাল করে দিন। কোরআর মুখস্থ করার জন্য আমাকে রহমত করুন।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নাজমুল একটি অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। পরিবারের আয়ের অবস্থা এতটাই দুর্বল যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হয়।
অনেক কষ্টে রংপুরে নিয়ে গিয়ে ডাক্তার দেখালে রংপুরের চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানিয়েছেন, শিশুটিকে দ্রুত ঢাকার নিউরো সাইন্স হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু করা জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা না হলে নাজমুল চিরতরে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।
ডাক্তাররা বলেছে চিকিৎসার প্রাথমিক খরচ প্রায় ৮০ হাজার টাকা প্রয়োজন হবে।
এই অর্থ জোগাড় করা পরিবারটির পক্ষে একেবারেই সম্ভব নয়। আল্লাহ সব করার মালিক তবে নাজমুলের জীবন এখন সমাজের হৃদয়বান বিত্তবানদের দয়ার ওপর নির্ভর করছে।
শিশু নাজমুলকে বাঁচাতে স্থানীয় সচেতন মহল, মানবিক সংগঠন ও সমাজের হৃদয়বান বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে নাজমুলের মা নাজমা বেগম।
নাজমুরের মা বলেন, সবার সামান্য সহায়তায় হয়তো আবার দাঁড়াতে পারবে নাজমুল, হাঁটতে পারবে—আর একদিন কোরআনের হাফেজ হয়ে তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে।
নাজমুলের চিকিৎসার জন্য সহায়তা পাঠানো যাবে তার মা নাজমা বেগমের বিকাশ অথবা নগদ পার্সোনাল নম্বরে: 01759262343।
সবশেষ আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ রাত ৯টা পর্যন্ত নাজমুলের মায়ের মোবাইলে সাহায্য এসেছে মোট ১৩৫০০ টাকা।
এফএস