যশোর শহরে চলন্ত মোটরসাইকেলে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শংকরপুর ইসহাক সড়কে এ খুনের ঘটনাটি ঘটে। নিহত আলমগীর ওই এলাকার মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে। তিনি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। নিহতের লাশ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।
নিহতের মামা এনামুল হোসেন জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে শংকরপুরে অবস্থিত যশোর মেডিকেল কলেজ এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন আলমগীর। পথিমধ্যে
শংকরপুর ইসহাক সড়কে সাবেক কাউন্সিলর শাহেদ হোসেন নয়নের অফিসের সামনে পৌঁছালে আরেক মোটরসাইকেলে থাকা এক দুর্বৃত্ত পিছন থেকে তার (আলমগীর) মাথায় গুলি করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আনলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যা মিশনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল সুটারসহ দুইজন ছিলেন।
নিহতের বিয়াই শফিকুল ইসলাম তোতা জানান, আলমগীর বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও তিনি একজন ভূমি ব্যবসায়ী। কোন অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন না। এলাকায় দানবীর হিসেবে তার সুনাম রয়েছে। খুন হওয়ার মতো কোন অন্যায় তিনি করেননি। দুর্বৃত্তরা কি কারণে তাকে খুন করেছে এটা বোধগম্য না। খুনের সাথে জড়িতদের আটক করে কঠিন শাস্তির দাবি করেছেন শফিকুল ইসলামসহ অন্য স্বজনরা।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, সন্ধ্যা ৭ টার দিকে আলমগীরকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথার বামপাশে গুলির চিহ্ন রয়েছে।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, শংকরপুর ইসহাক সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেলে আলমগীর হোসেন নামে এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। খুনিরাও মোটরসাইকেল ছিলেন। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
এদিকে, আলমগীর হত্যাকান্ডের খবর শুনে হাসপাতালে ছুটে আসেন বিএনপির খুলনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক যশোর -সদর আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যশোরে বিএনপির ৬৮ নেতা কর্মী খুনের শিকার হয়েছেন। অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ও খুনের ঘটনাটি দুঃখজনক। ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আলমগীরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। খুনিদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পুলিশ প্রশাসনের তড়িৎ হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
এফএস