ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে দাখিল করা ৬১টি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৩৭ জনকে বৈধ এবং জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নুসহ ২৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।
গতকাল শনিবার ও আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত যাচাই-বাছাই শেষে এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা।
জানা গেছে, শনিবার কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম), কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী ও বাজিতপুর) এবং কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব ও কুলিয়ারচর) এই তিনটি আসনের ২৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই করা হয়। এদের মধ্যে ১০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
বাতিল হওয়া উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, একই আসনে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম এবং কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রহিম মোল্লাসহ মোট ১০ জন।
অপরদিকে কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী এবং কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপিতে নবাগত সৈয়দ এহসানুল হুদাসহ ১৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
আজ রবিবার যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে কিশোরগঞ্জ-১, ২ ও ৩ সংসদীয় আসনের ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বাতিল হওয়া ৬ জন হলেন— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হেদায়েতুল্লাহ হাদী, খেলাফত মজলিসের আহমদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী রুহুল হোসাইন, খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল ও রেজাউল করিম খান চুন্নু।
কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বাতিল হওয়া ৪ জন হলেন— বিএনএফের বিল্লাল হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী নূর উদ্দিন আহমেদ, ইসলামী আন্দোলনের আবুল বাসার রিজওয়ান ও গণঅধিকার পরিষদের শফিকুল ইসলাম। কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে বাতিল হওয়া ৪ জনের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু, গণতন্ত্রী পার্টির দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে এম আলমগীর ও জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, হলফনামা সঠিকভাবে পূরণ না করা, তথ্যের গরমিল, ঋণ খেলাপি হওয়া এবং এক শতাংশ সমর্থক ভোটারের তথ্য সঠিক না থাকায় এসব মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করে আইনগত প্রতিকার চাইতে পারবেন।
ইখা