দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি নির্ধারিত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা হলেও বাজারে তা ১ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক দোকানে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে সাধারণ মানুষ দারুণ ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের দাম বেড়েছে, কিন্তু প্রশাসন কার্যকর নজরদারি চালাচ্ছে না। তারা বলছেন, অনেক ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা সিন্ডিকেট গঠন করে ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করছে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার খানসামা বাজার, পাকেরহাট, মরিয়ম বাজার, কাচিনিয়ার বাজার, জয়গঞ্জ বাজার ও চৌরঙ্গী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বহু দোকান খালি। মানুষ সিলিন্ডার না পেয়ে হতাশ ও অসহায়।
খানসামার বাজারে গ্যাস কিনতে আসা জসিম উদ্দিন বলেন, রান্নার গ্যাস ছাড়া চলা যায় না। বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এটি সাধারণ মানুষের জন্য খুবই কষ্টের।
মাসুদ রানা জানান, পাঁচটি দোকান ঘুরেও কোথাও গ্যাস পাইনি। এভাবে চললে মানুষ রান্না করতে পারবে না। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
খুচরা বিক্রেতারা দাবি করেছেন, ডিলারদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। পেট্রোল পাম্পগুলোতেও গ্যাসের সরবরাহ নেই, যা জনজীবন বিপর্যস্ত করছে।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সিন্ডিকেট ভাঙার দাবি জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, নাহলে রান্নাঘরের সংকট কেবল বাড়বে এবং সাধারণ জীবন বিপর্যস্ত হবে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) অয়ন ফারহান শামস বলেন, “গ্যাস সিলিন্ডারের বিষয়টি আমি নিজেও ভুক্তভোগী তারপরও বাজার মনিটরিং চালাচ্ছি। সমস্যা চিহ্নিত করতে এবং হাট-বাজারে যথাযথ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি।”
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, দিনাজপুর জেলা সহকারী পরিচালক মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, এটি শুধু খানসামা বা দিনাজপুরের সমস্যা নয়, এটি সারা দেশের চিত্র। এটি একটি সিন্ডিকেট। আমরা সেই সিন্ডিকেট ধরার চেষ্টা করছি এবং বিষয়টি আমাদের নজরদারিতে রয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনতে না হয়, সেই দিকে আমরা কাজ করছি।
ইখা