পাবনার ঈশ্বরদীতে চলতি মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস চলমান রয়েছে। সর্বনিম্ন এ তাপমাত্রায় সপ্তাহের ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়েছে শীতের প্রকোপ, কাঁপছে ঈশ্বরদী। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।
আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) বেলা ১১ টার দিকে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা চলতি মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। একদিকে তাপমাত্রা সর্বনিম্নের ঘরে অন্যদিকে টানা শৈত্যপ্রবাহের সাথে ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল বাতাস ক্রমেই স্থবির করে তুলছে মানুষের জীবনযাত্রায়।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস সূত্র জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে আজকেই (সোমবার) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রির ঘরে নেমেছে। তাপমাত্রা আরো কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বাতাসে আদ্রতা রয়েছে ৯৫ শতাংশের একটু বেশি। গতকাল রবিবার (৪ জানুয়ারি) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে, গত শনিবার ৯ ডিগ্রি এবং শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। শীতের কারণে হাসপাতালে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা।
এদিকে পৌর শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে দেখা গেছে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.৪ ডিগ্রিতে স্থবির জনজীবনে সবচেয়ে বিপাক রয়েছেন ভাসমান, ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ। শীত নিবারনে বিতরণ থেকে সংগ্রহ করা একটি কম্বলই যেন ছিন্নমূল মানুষের একমাত্র সম্বল। শুধু তাই নয়, সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় সৃষ্ট শৈত্যপ্রবাহে অনেকেই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছেন।
ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব গলিতে আগুনে শীত নিবারনের সময় কথা হয় স্টেশনে থাকা ভাসমান মানুষ রেহেনা বালার সাথে। তিনি বলেন, ‘পোলামাইয়া লইয়া শীতের মধ্যে কই যামু। অতিরিক্ত শীতে কোনখানে যাইয়া শান্তি পাইনা, তাই এহেনে আইয়া আগুনে শীত নিবারনের চেষ্টা করতাছি।’
স্টেশন রোডে ভ্রাম্যমান দোকানী মোঃ জুলমত শেখ বলেন, ‘টানা শৈত্যপ্রবাহে শীতের পরিমাণ এতটাই বেড়েছে যে মানুষ নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছে না। বেচাকেনা একেবারেই নেই, কিভাবে চলবো বুঝে পাচ্ছিনা।’
পৌর মার্কেটের সবজি ব্যবসায়ী জুয়েল বিশ্বাস বলেন, ‘হাটে গিয়ে সেই ভোরবেলা সবজি কিনে এনে এখানে বসে বিক্রি করতে হয়। দু-তিনদিন অতিরিক্ত শীত আর কুয়াশায় বেচাকেনা নেই। সবজি বিক্রি করে যা লাভ হয় তা দিয়ে সংসার চলে। এত শীতে লোকজন বাইরে না থাকলে কিভাবে বেচাকেনা হবে? একটু চিন্তায় আছি।’
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক নাজমূল হক রঞ্জন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাপছে পুরো ঈশ্বরদী। শৈত্যপ্রবাহের সাথে ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে শীতের প্রকোপ বেড়েছে। তাপমাত্রা আরো কমে শীতের পরিমান বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।’
ইখা