চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ধরতে যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউল হক চৌধুরীকে ছিনিয়ে নিয়েছে জনতা।
সোমবার (০৫ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের কদমরসুল গ্রামের বটতলী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জিয়াউল হক চৌধুরী খানখানাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জিয়াউল হক চৌধুরী খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ.লীগের সাবেক সভাপতি মাহফুজুর রহমান চৌধুরীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জিয়াউল হক চৌধুরী নাশকতা মামলার আসামি। বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নাছিরসহ সঙ্গী পুলিশ ফোর্স তাকে গ্রেপ্তার করতে যায়। গ্রেপ্তার চেষ্টা করার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেন।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতার বাঁধার মুখে জিয়াউল হক চৌধুরী পালিয়ে যান। খবর পেয়ে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদ সাইফুল্লাহ অতিরিক্ত ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে যান।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, জিয়াউল হকের ছোট ভাই আরিফুর রহমান চৌধুরী চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি। আরিফ বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। মূলত আরিফের ফোনে পুলিশ জিয়াউলকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
এ বিষয়ে জানতে বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নাছির উদ্দীনকে ফোন করা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন, পরে বিস্তারিত জানাবেন বলে ফোন সংযোগ কেটে দেন।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদ মো. সাইফুল্লাহ বলেন, “জিয়াউল হক চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশ বাধার মুখে পড়ে। তাকে আটকের পর ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। যারা পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছেন, তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি বর্তমানে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছি।”
এনআই