বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া বিলের পোলসংলগ্ন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খননকৃত স্বর্ণিভর খালের প্রবেশমুখ দখলের কারনে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় খালটি পানি প্রবাহ বন্ধ । তবে পানিপ্রবাহ বন্ধ হওয়ার কারনে অনাবাদি থাকছে আড়াই হাজার একর ফসলি জমির চাষাবাদ। শুধু তাই নয় কৃষকের স্বপ্নও থেমে গেছে।
খালটি দখল, দূষনের কারণে এখন কার্যত মৃতপ্রায়। তবে সংশ্লষ্টি কৃর্তপক্ষ কৃষকের কষ্ঠের কথা জানার পরেও খালটি খনন করার বিষয়ে তাদের নেই কোন অগ্রগতি। তাই এখন চাষাবাদ বন্ধের শঙ্কায় দিন কাটছে স্থানীয় কৃষকদের।
তবে প্রায় ৭ বছর আগে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নান্নু কাজী খালটি দখল করে স্থাপনা নির্মান করেছিলেন। আ’লীগ নেতা নান্নুর দখলের কারনেই আজ খালটি মৃত হওয়ায় কৃষকদের স্বর্প্ন এখন দুঃস্বপ্নের পরিনিত হয়েছে।
এদিকে বিকল্প পদ্ধতিতে সেচের ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)।
দখল আর দূষণে মরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খননকৃত স্বর্ণিভর খালের প্রবেশমুখের খালটি। কোথাও শুকনো, কোথাও ময়লা আবর্জনার স্তূপ আবার কোথাও খাল দখল করে গড়ে ওঠা আওয়ামী লীগ নেতার নির্মাধীন স্থাপনা। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে পানিপ্রবাহ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাল ভরাট হওয়ায় নেই খালে নেই পানি। বোরো সেচের জন্য করা হয়েছিল বিকল্প পদ্ধতি। কিন্তু বিকল্প পদ্ধতিতে পানি সেচের ব্যবস্থাও কাজে আসছে না। সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সেচের পাম্প ও যন্ত্রপাতি।
স্থানীয় এক কৃষক বলেন, ‘মানুষ পানি পায় না। কারন হচ্ছে খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারনে। তাই আমার মত অনেক কৃষকের চাষাবাদ বন্ধ।
অন্য আরেক কৃষক বলেন, জমি প্রস্তুত করেছেন বোরো আবাদের জন্য। পানি না থাকায় ফসলি জমি ফেটে চৌচির। এই জমির উপরেই চলে তার সংসার। চাষাবাদ করতে না পারায় সংসার চালানো নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় তিনি। কারন ‘পানির অভাবে চাষ করা যাবে না। জমি ফেটে গিয়েছে।’ এই গ্রামের শত শত চাষির একই অবস্থা। তাদের আড়াই হাজার একর ফসলি জমির চাষাবাদ হুমকির মুখে। পানির অভাবে চাষাবাদ বন্ধ থাকায় আমাদের দিন কাটছে দুশ্চিন্তায়।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও কৃষকদের র্দীঘ দিনের দাবি, দ্রুত খালের মধ্যে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে খালটির খনন কাজ সম্পূর্ণ করা হোক।
এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় চাষিরা। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলা সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বরিশালের চরকাউয়ার স্বনির্ভর খালের ২ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে।
এফএস