এইমাত্র
  • নওগাঁয় প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্যসহ আটক ৯
  • ইসিতে দায়ের করা আপিলের শুনানি ১০-১৮ জানুয়ারি
  • মাচাদো নোবেল পুরস্কার দান করলে সাদরে গ্রহণ করবেন ট্রাম্প
  • নির্বাচনের আগে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা নিয়ে যা জানালেন গভর্নর
  • মিয়ানমার সীমান্তের ভেতরে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ, বিজিবির সতর্কতা
  • হঠাৎ যে কারণে বিক্ষোভে উত্তাল ইরান
  • জানা গেল রাজধানীতে গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপের কারণ
  • ‘নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতে সরকার সব ব্যবস্থা নিয়েছে’
  • বিড়িতে সুখ টান দিয়েও দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইলে আল্লাহ মাফ করে দিতে পারে
  • নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চলন্ত বাসে আগুন, নিহত ৪
  • আজ শুক্রবার, ২৬ পৌষ, ১৪৩২ | ৯ জানুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    নওগাঁয় অবৈধ ইটভাটায় পুড়ছে খড়ি, গিলে খাচ্ছে ফসলি জমি

    আব্দুল মান্নান, নওগাঁ প্রতিনিধি প্রকাশ: ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
    আব্দুল মান্নান, নওগাঁ প্রতিনিধি প্রকাশ: ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম

    নওগাঁয় অবৈধ ইটভাটায় পুড়ছে খড়ি, গিলে খাচ্ছে ফসলি জমি

    আব্দুল মান্নান, নওগাঁ প্রতিনিধি প্রকাশ: ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম

    কৃষিপ্রধান দেশের শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত উত্তরের জেলা নওগাঁ। এই জেলার উৎপাদিত ধান-চাল ও বিভিন্ন ফসল দিয়েই দেশের অধিকাংশ খাদ্যের চাহিদা মিটে থাকে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে ফসল ফলানো সেই কৃষি জমি।

    এর প্রধান কারণ অনুমতিবিহীন অবৈধ ইটভাটা। এসব অবৈধ ইটভাটায় অনায়াসে পোড়ানো হচ্ছে খড়ি, যা দিন দিন গিলে খাচ্ছে শত শত হেক্টর ফসলি জমি। এমন দৃশ্য চোখে পড়বে নওগাঁ জেলায়। অথচ অভিযোগ দিলেও অনেকেই প্রতিকার পাচ্ছেন না।

    জেলার পোরশা উপজেলার ইটভাটাগুলোতে সবচেয়ে বেশি খড়ি পোড়ানো হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পোরশা উপজেলায় ১১টি ইটভাটার মালিক তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছেন, যেগুলোর কোনোটি পরিবেশ অধিদপ্তরের অনাপত্তি সনদবিহীন। নিয়মবহির্ভূতভাবে গড়ে ওঠা এ সকল অবৈধ ইটভাটার ৮টিতেই খড়ি পোড়ানো হচ্ছে। ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে, ফসলি জমিরও ক্ষতি হচ্ছে।

    আবার কৃষকদের লোভনীয় টাকার প্রলোভন দিয়ে জমি লিজ নিচ্ছে ভাটার মালিকরা। অনেক কৃষক উপায় না পেয়ে তাদের জমি লিজ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

    এদিকে সদর উপজেলার বরুনকান্দি এলাকার দিঘা গ্রামে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এম.বি.কে নামের একটি ইটভাটার বিরুদ্ধে শতাধিক এলাকাবাসী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তারপরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং ইটভাটার মালিক তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এম.বি.কে ইটভাটার স্বত্বাধিকারী আব্দুল মান্নান দাবি করেছেন, “আমরা যখন আন্দোলন করলাম, তখন ডিসি অফিস থেকে মৌখিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। অন্যরা যেভাবে চালাচ্ছে, আমিও সেভাবে শুরু করেছি।”

    স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চোখ বন্ধ করে বসে আছেন। লোক দেখানো কিছু ইটভাটায় অভিযান চালালেও অদৃশ্য কারণে এগুলো পুনরায় কার্যক্রম চালাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

    খড়ি পোড়ানোয় পোরশা উপজেলার ক্ষুদ্র একজন ভাটার মালিকও বিরক্ত। তিনি জানালেন, এখানে ১১টি ইটভাটা রয়েছে; এর মধ্যে ৩টিতে কয়লা ব্যবহার করে পোড়ানো হয়, বাকি ৮টিতে খড়ি পোড়ানো হচ্ছে। তিনি চান, সকলে কয়লা ব্যবহার করুক। “আমরা ডিসি অফিসকে জানিয়েছিলাম, খড়ি পুড়ানো হবে না। আমি নিজে একজন ভাটার মালিক হলেও প্রশাসনকে বলতে পারি না,” তিনি বলেন।

    পোরশা ঢুকতেই চোখে পড়বে কে.এম.এস ব্রিকস নামক ইটভাটা। পুরো একটি ফসলি মাঠ জুড়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন ভাটার মালিক কামরুল হাসান চৌধুরী। ভাটার ম্যানেজার তারেক আজিজ জানান, “শুরু থেকেই আমি এখানে কাজ করছি। ৮ বছর আগে শুরু হওয়া এই ইটভাটার কার্যক্রম এখন ৫৫ বিঘা জমি জুড়ে। সকল জমি বিভিন্ন মেয়াদে লিজ নেওয়া আছে, বিঘা প্রতি ২৫-৩০ হাজার টাকা। সরকারি সকল বিষয়ে রাজস্ব দেওয়া হয়। ইটভাটা শুরু করলে খড়ি একটু লাগেই।”

    এম.বি.কে ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযোগকারীরা জানান, গ্রামের মধ্যে ইটভাটা কিভাবে সম্ভব? প্রশাসন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। বন্ধ রাখার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ১৩৭ জন লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তারপরও কোনো পদক্ষেপ হয়নি। ইটভাটার কারণে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে, মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাচ্ছে, ফসলি জমির মাটি কাটা হচ্ছে।

    কেও.ই.বি.সি ইটভাটার স্বত্বাধিকারী ও পোরশা উপজেলা মালিক সমিতির সভাপতি আকবর আলী কালু কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম মিঠু বলেন, “কোনো ভাবেই ইটভাটায় খড়ি পোড়ানো চলবে না। যারা খড়ি ব্যবহার করছে, তাদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত।”

    পোরশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম বলেন, “নির্বাচনের কারণে ব্যস্ত হলেও মাটিকাটা ও অন্যান্য কারণে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হচ্ছে। খড়ি পোড়ানোর বিষয়ে সহযোগিতা করলে আমাদের অভিযান আরও কার্যকর হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চাইলে আমরা পূর্ণ সমর্থন দেব।”

    নওগাঁ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজমুল হোসাইন জানান, খড়ি পোড়ানো ইটভাটায় আগেও অভিযান চালানো হয়েছিল, এবারও একইভাবে অভিযান চালানো হবে। অভিযোগ আসলে ইটভাটাটি বন্ধ থাকলেও চালু করলে অভিযান করা হবে।

    উল্লেখ্য, সরকারি নির্দেশনা আসার পরও জেলার সকল ইটভাটার মালিকরা তাদের অবৈধ কার্যক্রম চালাতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি দিয়েছেন। এরপরও জেলা প্রশাসনের অনুমোদন আসেনি।

    এনআই

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…